পঞ্চম ধাপেও প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকার সমর্থিতরা সকাল ১০টার মধ্যে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র দখল করে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী আহমেদ বলেন, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়েছে সরকার সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের সন্ত্রাসীরা। ৭১৩টি ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এলাকায় এলাকায় চলছে হুমকি-হত্যা। দেদারছে চলছে এসব। জঙ্গলের রাজ্য এর আগে কখনও তৈরি হয়নি। সাধারণ মানুষ ভয়ভীতিতে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি ক্লাবঘরে পরিনত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শতাধিক লোকের প্রাণহানি হয়েছে, তারপরও ইসি চোখ বন্ধ করে বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এ নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের দুঃশাসনকে প্রলম্বিত করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান ধ্বংসকারী হিসেবে পরিচিত হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নির্বাচন কমিশনের মদদে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহাড়ায় পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনেও জনগণের ভোটাধিকার লুট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করে রিজভী আহমেদ বলেন, পঞ্চম দফার ইউপি নির্বাচনেও সকাল থেকেই আগের মতো ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, জোর করে নৌকা প্রতীকে সিল, বিরোধী দলের এজেন্টদের মারধর, ব্যালট বাক্স ছিনতাই অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা নয়, চাকরি রক্ষার্থে নির্বাচন কমিশন তাদের বিবেক বিক্রি করে দিয়েছেন। যাদের কাছে বিক্রি করেছেন তাদের সবাইকে আমরা চিনি। তারা এখন নির্বাক। তাদের কলঙ্কের তীব্রতা এতটাই বেশি যে তা ছাইচাপা আগুনের মতো লুকানো থাকছে না। ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে শতাধিক মানুষের প্রাণ চলে যাওয়া, হাজার হাজার মানুষের পঙ্গুত্ববরণ, সরকারি দলের অনুকূলে প্রায় অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যানকে জিতিয়ে দেওয়ার পরও কমিশন অকপটে সরকারের পক্ষে সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গণতান্ত্রিক নিয়ম পদ্ধতি এবং নির্বাচনি রায়ের মধ্যে দিয়ে জনগণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতাকে তালাবন্দি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, বোয়াখালী, রাঙ্গুনিয়া ও পটিয়া উপজেলা, ফেনীর দাগনভূইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, নরসিংদী সদর এবং কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নানান অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন উর রশিদ, সহদফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রমুখ।
আরও পড়ুন-
রোজার পর আসছে কওমিপন্থীদের নতুন জোট!
বরিশাল পলিটেকনিকে ছাত্রলীগ নেতা খুন, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ
/এসটিএস/এফএস/








