বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে ‘আমি অবরুদ্ধ’ হয়ে আছি। শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া একটায় তিনি নিজেই বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান। তার দাবি, শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি আর বেরুতে পারেননি।
জানতে চেয়ে ফোন করা হলে বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনের পর বেরুতে পারেননি। এরপর পুলিশ গুলশান কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করে। এখন তাকেই হয়তো ধরতে চায় তারা।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, মূলত রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় পুলিশ কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করে। গ্রেফতারি এড়ানোর জন্যই শুক্রবার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন রিজভী।
সূত্রের দাবি, বরাবর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তার সংবাদ সম্মেলনে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলেও শুক্রবার কৌশলে গুলশানে আসেন। দলের চেয়ারপারসনের অনুমতি নিয়ে রিজভী গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সূত্রের ভাষ্য, গুলশান কার্যালয়ে থেকে মূলত রিজভী গ্রেফতার এড়াতে চান। আইনশৃংখলা বাহিনী কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করবে না, এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই শুক্রবার গুলশানে অবস্থান নেন রিজভী।
জানতে চেয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি অসুস্থ থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সিরাজুল ইসলাম গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গিদের হামলায় আহত হয়েছিলেন। তবে এসআই জাহাঙ্গীর বলেন, এমন কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। সেখানে এমনিতেই পুলিশ ডিউটি করে থোকে।
প্রসঙ্গত, ২৫ জুলাই বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার সকালে ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুহুল আমিন এ পরোয়ানা জারি করেন। রিজভী ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমার ওরফে শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামলা খান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, আজিজুল বারি হেলালসহ ৯জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত বছর ২৭ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের সারাদেশে অবরোধ হরতাল চলাকালে পল্লবী থানাধীন এলাকায় আসামিদের নির্দেশে দুর্বৃত্তরা বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পল্লবী থানা পুলিশ ওই ৯জনসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে। পরবর্তীতে পল্লবী থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে গত ৩ মে ১৭ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এসটিএস/ এমএসএম/








