‘নির্বাচনকালীন সরকার’ নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোয় বিভাজন

সালমান তারেক শাকিল
১৯ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:৪১আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:০২

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন ইস্যুতে কয়েকটি বিষয়ে একমত হলেও মূল দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে ‘নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা’ নিয়েই। শক্তিশালী ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে ৩১টি দলের মধ্যে মহাজোটভুক্ত দলগুলো ‘সাংবিধানিক নিয়মে’ই জাতীয় নির্বাচন চেয়েছে। আর বিএনপিজোটভুক্ত ও জোটের বাইরের দলগুলো ‘নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকারের’ পক্ষে মত দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া  প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।

রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া প্রস্তাবগুলো থেকে জানা যায়, ‘নির্বাচনকালীন সরকার’-এর বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরও কিছু বিষয়ে ছোট-ছোট বিরোধ আছে। এর মধ্যে কোনও কোনও দল সার্চ কমিটি চায়নি, কোনও দল আবার সার্চ কমিটির আগে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি চেয়েছে। কোনও কোনও দল নির্বাচনপদ্ধতি সংস্কারের দাবিও জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে।

মূল বিরোধ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে

ইসি গঠন ইস্যুতে রাষ্ট্রপতির ওপর রাজনৈতিক দলগুলো ভরসা করলেও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দলগুলো সরাসরি দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দলগুলো সাংবিধানিক নিয়মেই নির্বাচনকালীন সরকার চেয়েছে। অর্থাৎ তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই নির্বাচন চায়।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল

রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ বলেছে, নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবল আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। যদিও বিএনপি চায় ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার’। তাদের মতে, এই সরকার দলীয় হবে না।

বিএনপি তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়, সবার নিকট গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা জরুরি। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সহায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে খালেদা জিয়া জাতির সামনে আসবেন। নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে—এ নিয়ে ব্যাখ্যা দেবেন তিনি।

মহাজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে জাসদ ইনু, জাসদ আম্বিয়া, তরিকত ফেডারেশন, ওয়াকার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল ও জেপি সাংবিধানিক নিয়মেই নির্বাচন অনুষ্ঠান চায়। এর বাইরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, বিজেপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্প ধারা, গণফোরাম, জেএসডি, গণফ্রন্ট নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন চেয়ে সুপারিশ করেছে।

দুই প্রধানজোটের বাইরে বামপন্থী সিপিবি বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন চেয়েছে। দলটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের কর্তৃত্বকে সাংবিধানিকভাবে সংকুচিত করে তার অন্তর্বর্তীকালীন কাজ তত্ত্বাবধায়নমূলক অত্যাবশ্যক রুটিন কিছু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। প্রয়োজনে সংবিধানও সংশোধন চায় সিপিবি।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণে রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় কাছাকাছি প্রস্তাব করেছে রাষ্ট্রপতির কাছে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দল

সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গ

নির্বাচনের সময় প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়। একইসঙ্গে ২০ দলীয়জোটভুক্ত দলগুলো নির্বাচনে সেনা চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে সুপারিশ করেছে। তবে আওয়ামী লীগ সেনা অনুল্লেখ রেখে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ করার ওপর জোর দিয়েছে। 

ছোট-ছোট বিরোধ

ছোট-ছোট বিরোধের মধ্যে ইসলামী ফ্রন্ট সার্চ কমিটির বিপক্ষে মত দিয়েছে। জাকের পার্টি সার্চ কমিটির আগেই উচ্চ পর্যায়ের কমিটি চেয়েছে। জাতীয় পার্টি চায় সরাসরি প্রার্থী বাদ দিয়ে দলকে ভোটের মধ্যে আনতে। তিন শ আসনেই সব থেকে প্রার্থী দেবে। এক্ষেত্রে ভোটের ৫০ শতাংশ যে দল পাবে, তারা ১৫০ আসন নিয়ে সরকার গঠন করবে।

সাম্যবাদী দল, তরিকত ফেডারেশন মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক ব্যক্তি চাইলেও অন্য কোনও দল এ বিষয়টিকে শর্ত করেনি। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত বা অভিযুক্তদের পরিবারের কেউ যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, এ বিষয়টিকে সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করতে একাধিক দল প্রস্তাব করেছে।

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস চেয়ে বিএনপি, বিজেপি প্রস্তাব উল্লেখ করলেও আওয়ামী লীগ ও মহাজোটভুক্তরা এ নিয়ে কোনও প্রস্তাব দেয়নি। 

ই-ভোটিং চেয়ে আওয়ামী লীগ প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ইভিএম থেকে বিরত থাকতে রাষ্ট্রপতিকে সুপারিশ করেছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর বিভাজন নিয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে অস্থিরতা চলবেই। এজন্য রাষ্ট্রপতিই রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতা করার নির্দেশ দিতে পারেন। না হলে আবার নির্বাচনকালীন অস্থিরতা বাড়বে। এর ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও সার্চ কমিটি গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক না হলে দেশের জনগণ তা মানবে না।

 আরও পড়ুন: ইসি গঠনে যেসব বিষয়ে একমত আ. লীগ-বিএনপি

/এমএনএইচ/

 

সম্পর্কিত
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম