রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত না আসায় তা এই জাতিগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতা অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির নেতারা বলেন, এতবড় একটি গণহত্যার নিন্দা ও তা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারা নিরাপত্তা পরিষদের এক বিরাট ব্যর্থতা।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সভায় দলটির নেতারা এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। সভায় অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে পার্টির মাসব্যাপী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। সভায় নেতারা বলেন,নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বিষয়ক উন্মুক্ত আলোচনায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অধিকাংশ দেশের সমর্থন পেলেও সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর নির্দিষ্ট কোনও বাধ্যবাধকতা আরোপের সিদ্ধান্ত না হওয়াটা গভীর উদ্বেগের। এই ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদের কোনও সদস্য রাষ্ট্র নির্দিষ্ট কোনও প্রস্তাবনাও উত্থাপন করেনি। এই পরিস্থিতি উদ্বেগ-উৎকন্ঠার জন্ম দিয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা ও কাচিন জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও বর্বর নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদ নিন্দা প্রস্তাব ও অবিলম্বে তা বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে না পারায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মিয়ানমার সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর বর্বরতা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও রাশিয়াকে পক্ষে আনতে না পারা বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে নেতারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে ভারত ও জাপানসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট যে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এটা মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে তার তৎপরতা এবং নীতি কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু ও আনছার আলী দুলাল উপস্থিত ছিলেন।








