সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মীজানুর রহমান শেলী বলেছেন, ‘মানুষ ভয় পায়, অস্বাভাবিক কোনও পরিবর্তন হবে কিনা, ক্ষমতার কোনও পরিবর্তন হবে কিনা। আওয়ামী লীগের পক্ষে স্বাভাবিক পরিবর্তনে যাওয়ার ভয়টা হচ্ছে দেশে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তারা ভীত হয়ে আছে। তারাও পরিবর্তনকে ভয় পায়। ভয় পায় এ জন্য যে, তারা জানে না পরিবর্তনে কোনও প্রতিহিংসা আসবে কিনা। এই প্রতিহিংসা কি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, সে চিন্তা করে তাদের পক্ষে ক্ষমতা সহজে ছাড়া সম্ভব নয়।’
বুধবার (০৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন সাবেক এই মন্ত্রী। এসময় তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপির সমালোচনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলেন। আওয়ামী লীগের ‘এক্সিট পয়েন্ট’ কী হবে, তারা তা জানে না– এটিই দলটির সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেন ড. মীজানুর রহমান শেলী। তিনি বলেন, ‘এ কারণে আওয়ামী লীগ পরিবর্তনকে ভয় পাচ্ছে। কারণ, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিশোধপরায়ণতার মুখোমুখি হতে হবে, এই শঙ্কাও আছে তাদের।’
প্রতিশোধ-পরিস্থিতির শঙ্কা থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় সংলাপের প্রয়োজন দেখছেন মীজানুর রহমান শেলী। তিনি বলেন, ‘সত্যিকারভাবে বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সব দ্বন্দ্ব ভুলে প্রতিহিংসার জায়গায় না গিয়ে একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘একেবারে রক্ষাকবচ দিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অথবা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে লৌহদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এরকম উদাহরণ কিন্তু অনেক দেশে আছে। মধ্যবর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা করা, দেশের ক্রান্তি কাটাতে যেন কাজ করে।’
এক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধা প্রসঙ্গে শেলী বলেন, ‘জাতি চাইলে, সবাই একমত হলে সংবিধান পরিবর্তন হবে। প্রয়োজনে (সাবেক প্রধান বিচারপতি) খায়রুল হকের রায়টিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।’ তিনি জানান, সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী, স্বাবলম্বী অর্থনৈতিক মতাদর্শ এবং কোনও বিশেষ দেশের প্রতি নতজানু নীতি না রেখে যদি কোনও উদ্যোগ গৃহীত হয়, সে ধরনের উদ্যোগে নিজেকে যুক্ত করবেন তিনি।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করে শেলী বলেন, এ ব্যবস্থার ঝুঁকি সম্পর্কে শীর্ষ নেতানেত্রীদের সচেতন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, ছদ্মবেশী একদলীয় শাসন চলছে। এতে কোনও সন্দেহ নেই। এই ছদ্মবেশটা না রেখে সরাসরি একদলীয় বলা গেলেও ভালো হতো।’
বিএনপি প্রসঙ্গে ড. শেলী বলেন, ‘তাদের কথার তো কোনও বাস্তবায়ন নেই। একদলীয় সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, সেটিতে তারা সফল হয়নি। তারা বললেও সমাজের ওপর ইম্পেক্ট পড়ছে না। কিন্তু এটা বিএনপির দোষ না। কারণ, মানুষ নানা ধরনের পরিবর্তন দেখতে-দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তারা ভয় পায়, আরেকটা পরিবর্তন হলে আরও অশান্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলটি তো ক্ষমতায় থাকাকালে তৈরি হয়েছে। স্যুট-কোট থেকে তারা বেরোতে পারেনি। আন্দোলন তারা করতে পারেনি। এখনও তারা যদি সাংগঠনিকভাবে লেগে থাকে, তাহলে আগামী নির্বাচনে একটি রেজাল্ট আসতে পারে।’ শেলী সতর্ক করে বলেন, ‘মধ্যবর্তী সরকার যদি সর্বসম্মত নাও হয়, তাহলে স্বচ্ছ-জবাবদিহিতামূলক হতে হবে। দুই দলকে সম্মত হতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো হবে–দুদলের কাছেই গ্রহণযোগ্য হতে হবে।’







