কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের ৬৩ তম (সিপিসি-২০১৭) সম্মেলন মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) শেষ হয়েছে। সম্মেলনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নিঃশর্তভাবে দ্রুত মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে একটি বিবৃতি গৃহীত হয়েছে। এছাড়া এই সম্মেলনে পরবর্তী তিন বছরের জন্য সিপিএ নতুন চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাহী কমিটির নতুন চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন ক্যামেরুন পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ইমিলিয়া মনজোয়া লিফাকা। এর মধ্যদিয়ে বর্তমান চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর তিন বছরের মেয়াদ শেষ হলো।
কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সংসদ সদস্যদের সংগঠনের ৬৩তম সম্মেলন গত ১ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হয়। পরে ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও সিপিএ ভাইস প্যাট্রন শেখ হাসিনা এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সিপিএ সম্মেলনের আয়োজক ছিল সিপিএ বাংলাদেশ ব্র্যাঞ্চ ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সম্মেলনের শেষ দিনে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (বিআইসিসি) সিপিএ’র সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন চেয়ারপারসন নির্বাচন ছাড়াও বিভিন্ন কমিটির প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়।
সাধারণ অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে বিকালে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে একটি বিবৃতি গৃহীত হয়। বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নাগরিকরা যে মানবেতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
দিনব্যাপী সাধারণ অধিবেশন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। ব্রিফিং-এ সিপিএ’র বিদায়ী চেয়ারপারসন শিরীন শারমিন চৌধুরী, নতুন চেয়ারপারসন ক্যামেরুনের ডেপুটি স্পিকার অ্যামেলিয়া মোনজোয়া লিফানকা, সিপিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল আকবর খান, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন।
সফলভাবে সিপিএ সম্মেলন শেষ করতে পারায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিদায়ী চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বাংলাদেশ একই বছরে দুটো বড় সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সিপিএ ও আইপিইউ সম্মেলনের সফল আয়োজন থেকে আমাদের অর্জন অনেক। এটা আমাদের গণতন্ত্র ও সংসদের অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।’
তিনি জানান, বিশ্ববাসী স্বচক্ষে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো দেখার সুযোগ পেয়েছে। ’ এই সম্মেলন আমাদের গণতন্ত্রের ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে স্পিকার বলেন, ‘সরাসরি ভোটে আমি এই সংস্থার চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছিলাম। গত তিন বছর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমার অর্জন অনেক। এখানে থেকে অনেক কিছু দেখার ও শেখার সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশও এখান থেকে অনেক কিছু পেয়েছে।’
তিনি জানান, সম্মেলনে মোট ৮টি বিষয়ের ওপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেশ কিছু সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। সিপিএ কয়েকদিনের মধ্যে ওইসব সুপারিশ একত্রিত করবে।
তিন বছর সিপিএ’র চেয়ারপারসন হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘এ সময়ের মধ্যে আমি অনেক কিছু শিখেছি। জানতে পেরেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অমূল্য বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছি।’
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আহ্বান সিপিএর








