চাইলেই বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না: খালেদা জিয়া

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৪৬আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:০৪

মঞ্চে খালেদা জিয়া

বিএনপিকে ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন হবে না মন্তব্য করে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের দল। আমরা নির্বাচন করব। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না।’ এসময় আবারও নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান তিনি।




মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে‌ ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে খালেদা জিয়া একথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই সরকার ভোটে নির্বাচিত নয়। ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই ওদের অধীনে নির্বাচন হবে না।’ বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংসদের অধীনে কোনও নির্বাচন হবে না।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্বাচন করবেন, তা আর হবে না। আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে না।’ খালেদা জিয়া জোর দিয়ে বলেন, ‘এবার সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে। বিএনপি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় পার্টি। এটিকে ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন হতে পারে না।’
পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সরকার পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখায়। এই আওয়ামী লীগের আমলে পদ্মা সেতু হবে না। আর যদি জোড়াতালি দিয়ে বানায়ও, তাহলে তাতে ওঠায় রিস্ক আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন।’ এ কথা বলেই খালেদা জিয়া সমবেতদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কেন দরকার? শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, আগামীতেও হবে না।’
মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকেই ইনস্টিটিউশন চত্বরে ভিড় জমান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টায় মিলনায়তনে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গেট তালাবদ্ধ থাকায় বাইরের চত্বরে অবস্থান নিতে শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এক সময় চত্বরে সামনেই একটি পিকআপ ভ্যানের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ করে সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে সংগঠনটি। সেখানে বক্তব্যও দেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা। বিকাল ৩টা নাগাদ খালেদা জিয়া আসছেন না, এমন খবর প্রচার হলেও ৪টার দিকে জানানো হয় বিএনপির চেয়ারপারসন সমাবেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে পৌঁছান। গেট তালাবদ্ধ থাকায় বাইরে প্রায় এক ঘণ্টা গাড়িতে অবস্থান করেন তিনি। পুরো সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগানে-স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখর করে রাখেন। এসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্লোগান দেন– ‘নেত্রী আছে?’ তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলেন–‘আছে’। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মাইকে ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান জানান, কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে মিলনায়তনের মূল ভবনের তালা খুলে দিচ্ছে। এরপর নেতাকর্মীরা হুড়মুড় করে মিলনায়তনে প্রবেশ করেন। 


মিলনায়তনে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় বিএনপির সিনিয়র কয়েক নেতা বক্তব্য দেন। এসময় ছাত্রদলের সাবেক নেতারাও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় খালেদা জিয়া বক্তব্য শুরু করেন। ৩৭ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি। পুরো বক্তব্যেই তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাল-পেঁয়াজের অধিক মূল্যের সমালোচনা করেন। বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন ব্যাংক লুটপাটের জন্য সরকারকে দায়ী করেন। 
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই কাজগুলো যারা করছে প্রতিনিয়ত, মানুষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, বন্দি করে রাখে, দীর্ঘদিন বন্দি থাকছে। অনেকের খবর পাওয়া যায়, অনেকের কোনও খবরই পাওয়া যায় না। অনেককে আবার কোনও রকমে ছেড়ে দেয়। দিয়ে তাকে বলে দেয়–মুখটা বন্ধ রাখবা। মুখটা খুললে এরপর আর ফেরত আসতে পারবে না। সেজন্যই কিন্তু তারা এসে কথা বলতে চায় না। তারা এই কাজগুলো করে, তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে জঙ্গি বানায়।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন বা থাকবেন, তারা গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কাজগুলো করছেন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা তাদের বিরুদ্ধেই করবে দেশের মানুষ। কেন না তারা সব কাজ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই করছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘যে কাজগুলো হচ্ছে, দেশের এতগুলো মানুষকে খুন করা, গুম করা, অত্যাচার করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে মানুষকে আজকে শুধু দলীয় লোক সৃষ্টি করা।’ 
সৎ মানুষের জায়গা আওয়ামী লীগের আমলে নেই বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। 
জঙ্গি সৃষ্টি করেছে হাসিনা-আওয়ামী লীগ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর অভিযোগ দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জঙ্গি সৃষ্টি কারা করেছিল। এই শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ; তাদের সৃষ্টি জঙ্গি। আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখনও শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ জঙ্গি সৃষ্টি করেছিল। এই জঙ্গি তো তারা সৃষ্টি করেছে। কথায়-কথায়, কিছু হলে জঙ্গির ভয় দেখায়।’

তিনি অভিযোগ করেন, শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই সব আওয়ামী লীগের নেতাদের আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতিগোষ্ঠী।
খালেদা জিয়া বলেন, জঙ্গি বাংলাদেশের মানুষ নয়। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়, তারা শান্তি চায়, তারা শান্তিতে থাকতে চায়। তারা জঙ্গি হতে চায় না। কিন্তু তাদের মিথ্যে অপবাদ দিয়ে জঙ্গি বানানো হচ্ছে। জঙ্গি বানাচ্ছে তারা। বিদেশিদের কাছে জঙ্গি দেখানো হচ্ছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, বলা হচ্ছে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। আসলে তাদের পকেটে জোয়ার বইছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এক ব্যক্তির শাসন চলছে। আর এক ব্যক্তির শাসন চলছে বলেই কোনও কিছু চলছে না।’ 
নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিলম্বের প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কাজেই এখনও মতলবটা তাদের ভালো নয়। মওদুদ সাহেব (মওদুদ আহমদ) বলেছেন একদিনও নাকি ওই পদ খালি রাখা যায় না। কাজেই আমরা বলতে চাই, শেখ হাসিনা যা চাইবে সেটা না করলে তাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে, তার নামে মামলা হবে, তাকে জেলে যেতে হবে, অত্যাচারিত হতে হবে।’
সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে অস্ত্রের মুখে বন্দি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, ‘গ্রামের মানুষ বুঝে গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আমরা বাঁচতে পারবো না। এজন্যই মানুষ পরিবর্তন চায়।’

৩৭ মিনিটের বক্তব্যের এক পর্যায়ে ভারতের প্রশংসা করেন খালেদা জিয়া। মুক্তিযুদ্ধে দেশটির সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, ভালো সম্পর্ক চাই।’ 
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাবেশস্থলে কয়েকবার বক্তব্য দেন। এর মধ্যে মিলনায়তনের ভেতরে বক্তব্যের সময় তিনি খালেদা জিয়াকে স্যালুট করেন। হাত উঁচু করে স্যালুট দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘নেত্রী আপনাকে স্যালুট, আপনি অনেক কষ্ট করে এই সমাবেশে এসেছেন। অপেক্ষা করেছেন।’ 

এছাড়া, সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ অনেকে বক্তব্য দেন। 


আরও পড়ুন: তালা খুললো ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের

/এসটিএস/এএম/
সম্পর্কিত
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বশেষ খবর
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের