বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করা পুলিশের রুটিন হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আদালতে দেশনেত্রীর হাজিরার দিনগুলোতে তার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ন্যাক্কারজনক হামলা চালাচ্ছে, গ্রেফতার করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এটি (হামলা) পুলিশের রুটিনওয়ার্ক হয়ে গেছে।’
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, ‘মঙ্গলবার আদালত থেকে ফেরার পথে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের হিংসাত্মক আচরণ অতীতের সব স্বৈরাচারের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তাদের সভ্যতা-ভব্যতা আর তিলমাত্র নেই। খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে বানোয়াট ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মামলায় জড়িয়েছে হিংসাপরায়ণ ও ক্ষমতালোভী আওয়ামী লীগ সরকার।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায় বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু জাতীয়তাবাদী শক্তিকে কখনোই তারা নির্মূল করতে পারবে না।’
বিএনপি এবং এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলা ও গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল। বিবৃতিতে তিনি গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনও কারণ ছাড়াই বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর থেকে ঢাকা মহানগর (উত্তর) দক্ষিণ খান থানার ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মিন্নত আলী, দক্ষিণ খান থানা বিএনপির সদস্য হারুন অর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক দল উত্তর খান থানা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ খান থানার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, পল্লবী থানা বিএনপির নেতা সাইদুর রহমান, তুরাগ থানা বিএনপির নেতা বুলু, খোকন সরকার, কবির, রামপুরা থানা বিএনপির নেতা ডল, ঢাকা মহাগর দক্ষিণ কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির নেতা বাবুল, মানিক, চকবাজার থানা বিএনপির নেতা আলামীন, শ্যামপুর থানা বিএনপির নেতা জামান আহমেদ পিন্টু, পল্টন থানা বিএনপির নেতা ইসমাইল হোসেন তালুকদার, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা, মহিলা দলনেত্রী আরজু, শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর নেতা জিল্লুর রহমান, আলম, জসিম, আলম দেওয়ানসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া হামলা চালিয়ে গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির নেতা আব্দুল কাদের কমিশনার ও শাহবাগ থানা বিএনপি নেতা সুমনসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।








