অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আওয়ামী লীগের আইনজীবী কিনা, প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন করেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি কি আওয়ামী লীগের আইনজীবী? তিনি তো আওয়ামী লীগের আইনজীবী নন। তার বেতন হয় রাষ্ট্রের টাকায়। তিনি কীভাবে শুধু খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করেন।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল। এই মামলা নিয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন। ছয়টি মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুর্নীতির মামলা ছিল ৯টি। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চে এই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। একটি বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি শামসুল হুদা। তিনি গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তার কোর্টে পাঁচটি মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে দুর্নীতির মামলা অনেক দূর এগিয়ে গেলেও খারিজ হয়ে যায়। তখন তো অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল করেন না। তাহলে কি তিনি আওয়ামী লীগের আইনজীবী?’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিচারপতি যিনি হবেন, তার হতে হবে নিরপেক্ষ। কে এম হাসান সাহেব ১৯৮০ সালের পর থেকে বিএনপির কোনও কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ২০০৬ সালে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে চাইলে আপনারা বলেন তিনি বিএনপির লোক।
দুর্নীতি করলে বিচার করতেই পারেন। আজকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ব্যাংকের মালিক। হাজার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে কোথায় যে নিয়েছে, তা কেউ জানেন না। এই হাজার টাকার বিচার করলে, কত হাজার বছরের জন্য জেল হবে, আমার জানা নেই। এসব আঁকড়ে ধরে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’
এই সরকার এখন চোরাবালিতে আটকা পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চোরাবালিতে যখন কেউ আটকা পড়ে তখন সেখানে ঘাঁটাঘাঁটি করলে আরও গভীরে চলে যায়। এই সরকার এখন চোরাবালিতে পড়েছে। খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো জনগণ পছন্দ করেনি। খালেদা জিয়া একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। ৭২ বছর বয়সী অসুস্থ একজন মহিলাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। এটা জনগণ ভালো চোখে দেখেনি। কারাগারে ডিভিশন না দিয়ে তিন দিন তাকে সাধারণ কয়েদির মতো রাখা হয়েছে। মন্ত্রী একবার শপথ নিলেই তিনি মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী একবার শপথ নিলেই তিনি প্রধানমন্ত্রী। সেই হিসেবে তার প্রথম দিন থেকেই ডিভিশন পাওয়ার কথা। এই সরকার চোরাবালির আরও গভীরে গেছে খালেদা জিয়ার জামিনে বিরোধিতা করে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নেত্রীর নির্দেশে সস্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক দল প্রেস কনফারেন্স করে বলে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি ছেড়ে তাদের দলে যোগদান করবেন। এরশাদ সাহেব তা করতে পারেন, আমরা অনেক সংঘবদ্ধ। এরশাদ সাহেব বিএনপিতে আসতে চাইলেও তাকে নেবো কিনা সন্দেহ আছে। আজকের এমন পরিস্থিতিতেও সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।’








