নিজ দলের জন্য এক আইন এবং বিরোধী দলের জন্য অন্য আইন প্রয়োগ করা আইনের শাসন নয় বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে আইনের বিভাজন আইনের শাসন নয়, স্বৈরশাসন।’ মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশে যদি মাইক নিয়ে আমি রাস্তায় নেমে জনমত যাচাই করি কয়েকটা প্রশ্ন রেখে, যদি জিজ্ঞেস করি, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত কিনা? একজনও বলবে না, এটা করা উচিত নয়। আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ করা হবে কিনা? পাবনায় দুই-একটা পাগল পাওয়া যাবে। এছাড়া, সবাই বলবে আমার দল হলে একরকম প্রয়োগ হবে, আবার বিরোধী দল হলে আরেক রকম প্রয়োগ হবে–এটা হয় না, এটা আইনের শাসন হতে পারে না। এটা স্বৈরশাসন।’
বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষ এবং মাটি চিনতেন উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘চিনতেন বলেই তিনি জাতির পিতা হতে পেরেছেন। সেই মানুষ কোনও দিন অন্যায়কে মেনে নেননি। ঘরে ঘরে তিনি স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদে লেখা আছে দেশের মালিক জনগণ। এটা যে কত বড় একটা কথা, তা আমরা অনুধাবন করতে পারি না। তার স্বাক্ষরিত দলিলে স্বাধীনতার অর্থ লেখা আছে। স্বাধীনতার স্বপ্নের কথা লেখা আছে। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখে স্বেচ্ছায় লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিল। অনেকের লাশও আমরা ফেরত পাইনি। আমরা শুধু স্বপ্ন পাইনি, দায়িত্বও পেয়েছি। স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। এই ৪৫ বছরেই কেউ পারেনি জনগণের মতের বাইরে ক্ষমতায় থাকতে। কোনও দিন পারেনি আর পারবেও না।’








