বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের দেওয়া স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এদিকে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ বলছেন, আমরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়েই তার চিকিৎসা করাতে চাই।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার সুপারিশ করেছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা.ফাওয়াজ হোসেন শুভ বলেন,আমরা সরকারের তৈরি করা স্বাস্থ্য প্রতিবেদনটি এখনও দেখিনি। এতে কী লেখা আছে তা আমরা জানি না। তবে,আমরা চাইবো খালেদা জিয়াকে যারা চিকিৎসা দিতেন উনারা যে চিকিৎসা দিবেন সেটাই উনি গ্রহণ করবেন। মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা তো খালেদা জিয়াকে দেখেননি, তাই তাদের চিকিৎসা গ্রহণ করার কোনও প্রশ্নই আসে না।
ডা.ফাওয়াজ হোসেন শুভ বলেন,দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে উনি আছেন। এটা দিতে সরকারের আপত্তি কোথায় সেটা আমরা বুঝছি না। যাদের তত্ত্বাবধানে উনি চিকিৎসা নেন উনাদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। উনারা তার সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা দেবেন। উনার ক্রনিক ডিজিজ তো। আমরা চাচ্ছি,যারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা আগে দিতেন তাদেরকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হোক এবং তাদের অধীনে উনার চিকিৎসা করা হোক। অলরেডি তার কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। উনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা প্রচণ্ড রকমভাবে উদ্বিগ্ন এবং আমাদের একটাই দাবি, উনার যারা চিকিৎসা করতেন তাদের অধীনেই উনার চিকিৎসা করার সুযোগ দেওয়া হোক।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন,‘ওয়ান ইলেভেনের সময়ও অনেক ব্যক্তিগত চিকিৎসক দুই নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি বাংলাদেশের তিন তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তাকে কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি একজন বয়স্ক মহিলা, তাকে এমন স্থানে রাখা হয়েছে যেখানে তিনি ঠিকমতো চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন না। আমরা এই কারণেই চাচ্ছি যে যেসব চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন তাদের মাধ্যমে উনার চিকিৎসা দেওয়া হোক। উনার জন্য আমরা অন্যায় কিছু চাচ্ছি না। নায্য দাবিটাই জানাচ্ছি।’
গত ১ এপ্রিল কারা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এরপর এই বোর্ডের চার সদস্য খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, চিকিৎসকের দেওয়া স্বাস্থ্য প্রতিবেদন আমরা কারা কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি।
এর আগে, রবিবার দুপুর সোয়া ১টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বোর্ড সদস্যরা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা হলেন— ঢামেক হাসপাতাল অর্থোপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামান শাহীন, নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মনসুর হাবীব, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মো. টিটু মিয়া ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক সোহেলী রহমান।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ড. আখতারুজ্জামানের বিশেষ অস্থায়ী আদালত। গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রায় ঘোষণার পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন সড়কের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।








