সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে লাভ নেই, ভারতকে সমস্যার কথা বলুন: মির্জা ফখরুল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ মে ২০১৮, ২১:০৯আপডেট : ২৬ মে ২০১৮, ২১:২৩



ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইফতার মাহফিল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের দেশের সমস্যর কথা না বলে শুধুমাত্র সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করবেন, এটা তো দেশের জনগণ মেনে নিতে পারবে না। দেশের মানুষ আশা করে, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার কথা বলবেন।’
শনিবার (২৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আয়োজনে ইফতার পার্টিতে তিনি এসব কথা বলেন। রাজনীতিবিদদের সম্মানে আয়োজিত এ পার্টিতে জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘১০ বছর ধরে শুনে আসছি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গেছে, তিস্তা চুক্তি হয়ে যাবে। কিন্তু আজ পর্যস্ত তার সমাধান হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘ভালো কথা, আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। তবে সম্পর্ক হতে হবে সম্পূর্ণ পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। আমার স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের স্বার্থ পূরণ করা আমার কাজ নয়। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দাবি করেন, তিনি এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তা তারা বিভিন্ন জায়গায় বলেও বেড়াচ্ছেন। তাহলে আমার দেশের সমস্যার কথা কেন বলছেন না তিনি?’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দিয়ে জনগণের লাভ নেই, আমার দেশের সমস্যার কথা বলতে হবে এবং তার সমাধন করতে হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে আমার দেশের মানুষ হত্যা করা হয়। এখন পর্যন্ত তার সমাধান করা হয়নি। এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলুন। সমস্যা নিয়ে কথা বলা উচিত, সেটাই দেশের জনগণ চায়।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমেই আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে চীন ও ভারতে যাওয়া উচিত ছিল। কারণ রোহিঙ্গা নিয়ে তারাই প্রথমে মিয়ানমারকে সমর্থন করেছে।’
এ বছরকে নির্বাচনি বছর উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা খুলনার নির্বাচন দেখেছেন। গাজীপুর নির্বাচনের আগে যে মহড়া দেওয়া হচ্ছে, তাতে সেখানে কী ধরনের নির্বাচন হবে তা বোঝা যাচ্ছে। গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর কেউ নিরাপদ নয়। এক ভয়াবহ রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে! এ কেমন রাষ্ট্র্র? এ কেমন শাসনব্যবস্থা? তারা আমাদের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে এক ভয়াবহ শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে। সম্পূর্ণ এক দলীয় শাসনব্যবস্থা চেপে বসেছে। তারা ভিন্ন রূপে এক দলীয় শাসন কায়েম করেছে। প্রশাসনকে দলীয় লোকে পরিণত করেছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা মিথ্যা ও সাজানো উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেই মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৫ বছরের সাজা হলে আপিল করার সঙ্গে সঙ্গে জামিন হযে যায়, কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সাধারণ নাগরিকের অধিকারটুকুও পাচ্ছেন না। চারদিন ধরে শুনানি হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে, সেসব নিয়ে টালবাহানা চলছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনও সম্পর্ক নেই। এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা সব রাজনেতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, আগেও জানিয়েছি, আবারও জানাচ্ছি।’

/এএইচআর/এইচআই/
সম্পর্কিত
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সব দলকে তাদের কর্মকাণ্ড করতে দিতে চাই, মানুষ ঠিক করবে তারা কাকে চায়: মির্জা ফখরুল
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম