খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বিবেকবর্জিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিবেকবর্জিত এবং তিনি বিনা চিকিৎসায় তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জীবনকে সংকটাপন্ন করে দিতে চান।’
বুধবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বাহানা। মামলার তারিখ পড়লেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন’—প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘তার (প্রধানমন্ত্রী) এই বক্তব্য অমানবিক ও চরম প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। গতকালও (মঙ্গলবার) কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে রিপোর্ট করেছেন—খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাই তাকে আদালতে হাজির করা যায়নি। সরকারি-বেসরকারি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা বলছেন তিনি অসুস্থ। তাহলে তার অসুস্থতাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারেন?’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা যখন কারাগারে ছিলেন, তখন প্রতিদিন শুনতাম—তিনি কানে শোনেন না, চোখেও দেখেন না। আরও কত কী। দিব্যি বেসরকারি হাসপাতাল স্কয়ারে নিজের পছন্দের চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। ফলে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে তার বক্তব্য বিবেকবর্জিত এবং বিনা চিকিৎসায় তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জীবনকে সংকটাপন্ন করে দিতে চান।’
খালেদা জিয়ার মামলাগুলোকে প্রভাবিত করতেই তাকে নিয়ে শেখ হাসিনা বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য দিচ্ছেন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে আবারও খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বহুদিন ধরেই সরকারের টার্গেট বলে দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘এ কারণে তিনি মিথ্যা মামলা ও রিমান্ডে নির্যাতন সহ্য করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ সামগ্রিক সরকারি সন্ত্রাসের প্যারাডাইম শিফট।’
ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও মন্ত্রী পদমর্যাদার নেতারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিন সিটি নির্বাচনে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়ক দখল করে নির্বাচনি সভা-সমাবেশ করছেন তারা। বড় পিকআপ ভ্যানে বিশাল কালার মনিটর লাগিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনে এসব অভিযোগ দেওয়ার পরেও তারা সরকারের মুখ চেয়েই কাজ করছে। বর্তমানে ইলেকশন-গেট কেলেঙ্কারির মূলহোতা আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন।’
নির্বাচনগুলোকে অন্যায়ভাবে সরকারের অনুকূলে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনে বিএনপির দাবি বারবার উপেক্ষা করছে কমিশন বলে যোগ করেন রিজভী।
এ সময় রিজভী তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের একটি তালিকাও তুলে ধরেন। গ্রেফতার হওয়া প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীর নাম তুলে ধরেন তিনি। তিন সিটিতে ধানের শীষের প্রচারণায় বাধা ও নির্বাচনি অফিস ভাঙচুরেরও অভিযোগ করেন রিজভী।








