আওয়ামী লীগ তাদের নিজস্ব মিডিয়া দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে নোংরা অপপ্রচারে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (৮ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা নিজস্ব মিডিয়া দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতায় বিএনপিকে জড়াতে কুৎসিত অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। ৬ আগস্ট দৈনিক জনকণ্ঠ ছয় বছরের পুরনো একটি ছবি ছাপা হয়েছে, যেটি ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত একটি ছবি। ছবিতে দেখানো হয়েছে ছাত্রদলের এক নেতার নাম, আসলে সে ছাত্রদলের নেতা নন, এটা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ছবি। ছবিতে যারা ছিল তারা সবাই ছাত্রলীগ।’
জনমনকে বিভ্রান্ত করতে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার জন্য সরকারি প্রপাগান্ডা মেশিন দিনরাত কাজ করছে বলেও দাবি করেন সাবেক এই ছাত্র নেতা। তিনি বলেন, ‘যার নজির গত ৬ আগস্ট জনকণ্ঠে দেখানো হলো। সরকারের প্ররোচনায় পত্রিকাটি গুজব রটিয়ে চলছে। আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি।’
‘দেশে যখন শান্তিময় অবস্থা বিরাজ করছে, ঠিক সে সময়ে ১/১১-এর কুশীলবরা আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন ১/১১-এর কুশীলব কারা? তাহলে আপনারা কে? আপনাদের আন্দোলনের ফসলইতো ১/১১। আপনিইতো ১/১১-এর প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করে তা ‘পাঠশালা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।’
এক-এগারোর সরকারের সব অপরাধ ও বেআইনি কাজ বৈধতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল বলেও দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘তাদের পৃষ্ঠপোশকতায় ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় তারা। জনগণের ইচ্ছাকে হানাদার বাহিনীর মতো পদদলিত করে র্যাব-পুলিশকে নিজেদের মতো সাজিয়ে, ছাত্রলীগ-যুবলীগ-শ্রমিক লীগকে বেআইনি অস্ত্রে সজ্জিত করে গণতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করার পরও ১/১১’র কুশীলব নিয়ে কথা বললে মানুষ মুখ টিপে হাসে। কারণ, জোরে হাসলে গুম হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এটা যেন গোটা ছাত্রসমাজের কোমরে দড়ি বেঁধে টেনে নেওয়া হচ্ছে। এটা জাতির জন্য শুধু লজ্জার নয়, এ দৃশ্য দেখে মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে। সরকার কতটা নিষ্ঠুর ও নির্মম হতে পারে, যে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায্য আন্দোলনের দাবি দমন করতে তাদের গ্রেফতার করে পায়ে ডাণ্ডা বেড়ি ও কোমরে দড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।। অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কতটা নির্মমতার পথ বেছে নিয়েছে, এটি তার নিকৃষ্ট উদাহরণ।’
অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের রিমান্ড বাতিল করে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান রিজভী। ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ বের করে দিয়েছে বলেও যোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘আসলে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের ডি-ফ্যাক্টো কর্তৃপক্ষ হচ্ছে ছাত্রলীগ। তাদের কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন উঠে বসে। ছাত্রলীগের হুকুমই তামিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রলীগের কারণেই সেখানে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কোনও নিরাপত্তা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সর্বব্যাপী নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তাদেরকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ন্যায্য দাবির আন্দোলনে তারা বিজয়ী হবেই।








