কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সময়মতো আরও জোরালো কর্মসূচি আসছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক যৌথ সভা হয়।
সাংবাদিকদের সামনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া উড়ে এসে রাজনীতিতে বসেননি। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পর অনেকে ভেবেছিল বিএনপি শেষ, ভেঙে যাবে। কিন্তু তখন খালেদা জিয়া জাতীয়তাবাদী পতাকা হাতে দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই তো সরকারের ভাবনায় খালেদা জিয়া ও বিএনপি। কারণ, সরকার বিএনপি ছাড়া কাকে মোকাবিলা করবে? বিএনপি ছাড়া কোনও দল আছে নাকি?’
আওয়ামী লীগ নির্বাচনের পাশাপাশি বিএনপিকে প্রতিহত করার প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে- এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা তো বলেছি প্রথম শর্ত খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, তারপর নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণ তাদের ভোট দেবে না, সেই জনগণকে তারা কীভাবে মোকাবিলা করবে। ইতোমধ্যে দেখেছেন জনগণ কীভাবে তাদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। তাই তারা যদি ফের জোর করে ভোটবিহীন নীলনকশার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাহলে জনগণের প্রতিরোধে তাদের ঘর তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে।’
ফখরুল বলেন, ‘দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। আশঙ্কা রয়েছে আগামীতে দেশে গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না। তাই একাদশ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এমন যদি হয় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলো না, তাহলে কি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে? গ্রহণযোগ্য হবে না।’
আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়াল খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান প্রমুখ।
আরও পড়ুন- বৃহত্তর ঐক্যের জন্য বিএনপির ১০ প্রস্তাব








