একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা নিয়ে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তোড়জোড় দুরভিসন্ধিমূলক ও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘ইভিএমে ভোট জালিয়াতি ও ভোট চুরির অফুরন্ত সুযোগ থাকবে বলেই সরকার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে নির্বাচনের আগে ইভিএম ব্যবহারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোটারবিহীন সরকারের দিক থেকে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলেই এখন ডিজিটাল মেশিন কারচুপির ওপর নির্ভর করছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী।’
সরকারি দল ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠনগুলো জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার মতামত দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘ইসিও দীর্ঘদিন বলে এসেছে সব দল না চাইলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু সবার মতামত উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে ইভিএম ব্যবহারের নানা ষড়যন্ত্রের কথা শোনা যাচ্ছে। ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তোড়জোড় দুরভিসন্ধিমূলক ও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
‘নির্বাচন কমিশন জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নামে এক বিতর্কিত মাধ্যম ব্যবহারের চিন্তা করছে’ বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘ভারতেও দুদিন আগে বিরোধী দলগুলো ইভিএম ব্যবহার না করতে সে দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইভিএম নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন হতাশা ও সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন এই ধরনের উদ্যোগ কার ইশারায় তা জাতির কাছে সুস্পষ্ট।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারতের ইকনোমিক টাইমস পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানা যায়, বিশ্বের ২০০টি দেশের মধ্যে মাত্র ৪টি দেশে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। যেসব অল্প সংখ্যক দেশে ইভিএম আংশিকভাবে ব্যবহার করা হয় সেখানেও ভোট প্রক্রিয়ায় ও ফল নির্ধারণে ভয়াবহ কারচুপির প্রমাণ মিলেছে। তাই প্রায় সব দেশেই নির্বাচনে ইভিএমকে ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ ও জনবিরোধী মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডে ইভিএম ব্যবহারে গবেষণায় ৫১ মিলিয়ন ইউরো খরচ করার পর এটিকে অবৈধ নির্বাচনি যন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জার্মানির সুপ্রিমকোর্ট ইভিএমকে অসাংবিধানিক ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করে এর ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করে। এছাড়াও হল্যান্ড, ইটালি ও প্যারাগুয়েতে ইভিএম নিষিদ্ধ করা হয়। বিবিসির একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে ভারতের ইভিএম প্রক্রিয়া হ্যাক করে কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল পরিবর্তন করে ফেলে। গত বছরেই ভারতের আরেকটি নির্বাচনে হিন্দুস্থান টাইমস পত্রিকার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সব ভোট চলে যায় সরকার দলীয় প্রার্থীর নামে।’
রাজধানীসহ সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে-বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘তাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে এবং যাদের পাচ্ছে তাদেরও আটক করে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে।’
আরও পড়ুন- আগামী নির্বাচন নিয়ে লন্ডনে সক্রিয় বিএনপি








