বিভিন্ন সময় যাদের সন্তানকে গুম করা হয়েছে, তাদের পরিবারকে গুমকারীদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
মান্না বলেন, ‘প্রতিবারই একই কথা শুনি। পাঁচ বছর ধরে একটা মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের পরিবারের সদস্যরা যে কেঁদে কেঁদে আকুতি জানাচ্ছে, এই কান্না শেখ হাসিনার কানে যাবে না।’
মান্না আরও বলেন, ‘অনেকেই যে গুম হয়ে গেছে একথা তারা জানে। তবে নির্বাচনের আগে আপনাদের কান্নার পাত্তা এই সরকার দেবে না। নির্বাচনের পর নতুন সরকার আসবে নাকি পুরনো বোতলে নতুন মদ আসবে একথা কেউ জানে না। তারা কোনও ভুল মানুষকে গুম করেনি। বুঝে শুনে গুম করা হয়েছে। এসব গুম মূলত রাজনৈতিক। যারা গুম হয়েছে তারা হয় বিএনপি করে, আর না হয় অন্য দল করে। রাজনীতিতে ভয়ের ত্রাস কায়েম করে রাখার জন্য গুমকে জিইয়ে রাখা হয়েছে। এই অন্যায় অত্যাচারের প্রতিকার আছে। প্রতিজ্ঞা করুন, যারা আমার সন্তানকে নিয়ে গেছে তাদের কাউকে ভোট দেবেন না।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এমন একটি দেশে বাস করছি যে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন প্রেমের কারণে কোথাও চলে যাচ্ছে। যদি চলে যেয়েই থাকে ধরে এনে বিচার করেন। আর না হলে পদত্যাগ করেন। এখন যে ব্যবস্থা চলছে এটা একটি লাগামহীন ব্যবস্থা, এই ব্যবস্থা দূর করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘এই যে পরিবারগুলোর চাওয়া, এটা কি অন্যায়? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্ধার করতে পারছে না, মামলা দিলেও নিচ্ছে না, মামলা নিলেও তদন্ত হয় না। সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন উত্তর পাওয়া যায় না? কারণ, রাষ্ট্র এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা।








