বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভা উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দলটির নেতাকর্মীরা নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন। ফলে পুরো এলাকা লোকে-লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। এদিকে বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার ( ১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টা থেকে রাজধানীসহ আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডসহ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টন সমাবেশ স্থলে আসতে শুরু করেন। এসময় তাদেরকে খালেদা জিয়াসহ দলীয় অন্যান্য নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
জনসভা উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করেছে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সভাপতিত্ব করবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির নেতাদের দাবি– পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের বাধা না আসলে আজকের সভাবেশে চার থেকে পাঁচ লাখ লোকের সমাগম হবে। এই জন্য গত দুই-তিন ধরে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে আজকে এখন পর্যন্ত সমাবেশ স্থলে আসতে নেতাকর্মীরা বড় ধরনের কোনও বাধার মুখে পড়েননি। তবে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশির শিকার হতে হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনসভা উপলক্ষে আজকে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বড় কোনও বাধা আসেনি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন সকাল থেকে। আশা করি, কোনও ধরনের বাধা না আসলে ৪ থেকে ৫ লাখ লোকের সমাগম হবে।’
এদিকে ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হয়। আমাদের পক্ষ থেকে কোথাও কোনও কমতি নেই। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রয়েছে। যেখানে যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার আমরা তা গ্রহণ করেছি।’
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট ও তল্লাশি প্রসঙ্গে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নিরাপত্তার খাতিরে চেকপোস্ট হয়, তল্লাসি হয়, ব্লক রেইড হয়। এগুলো সবই নিরাপত্তার ব্যবস্থার অংশ।’
সমাবেশ ঘিরে কোনও নাশকতার তথ্য নেই। তারপরও সব সন্দেহ, নির্দেশনা, ইন্টিলিজেন্সের পরামর্শে সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিসি আনোয়ার হোসেন।
এদিকে বিএনপির জনসভাকে কেন্দ্র করে করে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকতেও দেখা গেছে।








