জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘সেই সেনা শাসন এক-এগারোর আইন উপদেষ্টা, সাংবিধানিক পরামর্শদাতা, মাইনাস-টু থিওরির প্রচারক, সেই তথাকথিত সংস্কারবাদীরা, যারা দল থেকে বাদ পড়েছে, বহিষ্কৃত হয়েছে আজকে তারা যুক্ত হয়েছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে।’ এসময় ২৯ সেপ্টেম্বরে ১৪ দল আগে কর্মসূচি দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কর্মসূচির কথা শুনে বিএনপি ২৭ তারিখের কর্মসূচি পাল্টে ২৯ তারিখ করেছিল। আমরা পাল্টাপাল্টি করি নাই। করবো না।
শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত ‘বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচার ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে’ কর্মী সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে চক্রান্তকারী শক্তিরা। মহানগর নাট্যমঞ্চে সে দিন যারা হাতে হাত ধরে শপথ নিয়েছিল তারা কারা? সুকুমার রায়ের একটা কবিতা আছে-‘গোঁফেই আমি, গোঁফেই তুমি-গোঁফ দিয়ে যায় চেনা’ সেই গোঁফধারী ব্যক্তিরা।’
মেনন বলেন, তারা ঐক্য করেছে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে। আজ তারা যুক্ত হয়েছে, মানবাধিকার ফিরিয়ে আনতে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই, কাদের সঙ্গে ঐক্য করছেন? সেদিন এখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিবসহ অন্য নেতারা। তাদের ইতিহাস কী জানা নাই?
১৪ দল প্রসঙ্গে মেনন বলেন, আমরা জানবাজি রেখে লড়াই করেছি ২০০৪ সাল থেকে। আমাদেরকে রাজপথে নামতে দেওয়া হয় নাই, আমাদেরকে লাঠিপেটা করা হয়েছে। জনগণের অধিকারের জন্য আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। একুশে আগস্টের ঘটনা কি আমরা ভুলে গেছি? আমরা ভুলে গেছি সেই জঙ্গিবাদের উত্থানের কথা?
তিনি বলেন, আমরা ২৯ তারিখের কর্মসূচি আগেই ঘোষণা করেছিলাম। যখন আমরা বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে বসেছিলাম তখন তারা আমাদের বলেছিল এটা মহাসমাবেশ করার জন্য। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আজকের এই কর্মী সমাবেশকে জনসভায় রূপান্তর করেছি। হঠাৎ করে দেখলাম বিএনপি তার জনসভার তারিখ পরিবর্তন করে ২৯ তারিখ ঘোষণা করলো। গণমাধ্যমে কথা উঠলো পাল্টাপাল্টি হচ্ছে। আমরা পাল্টাপাল্টি করি নাই, করবো না।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, ‘কারণ যারা ৯ বছরে ৯ দিনও আন্দোলন করতে পারে নাই, অনুমতি ছাড়া রাস্তায় নামতে পারে না, তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের, ১৪ দলের কোনো পাল্টাপাল্টি প্রয়োজন নাই। আমরা দেখেছি বেশ কিছু দিন ধরে, সামনে নির্বাচনকে বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ ও ব্যর্থ করার জন্য একের পর এক চক্রান্ত চলছে।’
মেনন বলেন, ‘গতকাল দেখলাম বিএনপির ডাকা ২০ দলের জোটের মিটিংয়ে জামায়াত বলেছে, আমাদের নিয়েই যদি এত সমস্যা হয় আপনারা ঐক্য করুন। অন্যদিকে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বলছেন, আমরা তো বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করছি, জামায়াত তো এখানে নেই। কথায় বলে, হাত ঘুরিয়ে ভাত খাওয়া। কিন্তু, বাংলার জনগণ কখনও ভুল করে নাই, করবে না। তাদের চেহারা ধরা পড়ে গেছে। নির্বাচন হবে, নির্বাচন হচ্ছে। ১৪ দল ও আওয়ামী লীগ মিলে উন্নয়ন-অসাম্প্রদায়িক ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি একটা প্রশ্ন রেখে বলতে চাই, আপনাদের যদি এত জনপ্রিয়তা থাকে নির্বাচনে আসুন। আগামীকাল আপনারা জনসভা করবেন, ৭ দফা দাবি, ৯ দফা লক্ষ্য। কথা তো সেই একই। শুনে রাখুন যদি আবার আগুন সন্ত্রাস, হত্যা, নির্বাচন বর্জনের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চান-জনগণ এবার আপনাদের আর ক্ষমা করবে না।’








