অবশেষে সিলেটে সমাবেশ করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বাধা অতিক্রম করে আত্মপ্রকাশের ১১ দিনের মাথায় প্রথম সাংগঠনিক সমাবেশ করছে তারা। বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐকের সমন্বয়ে গঠিত ফ্রন্টের প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিলেটের তালতলা ভিআইপি রোডের পাশে জেলা রেজিস্ট্রারি মাঠে। বুধবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়।
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, খালেদা জিয়ারসহ সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি এবং সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমাবেশে অংশ নিতে গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার ভোরে ঢাকার কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে আসেন। ফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়া ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য এবং চার দল থেকে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখবেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী। বুধবার দুপুর ১টার দিকে সমাবেশের মঞ্চে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দিতে শুরু করেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, সিলেটের যে মাঠে ফ্রন্টের সমাবেশ হচ্ছে সেখানে হাজারখানেকের বেশি মানুষের জড়ো হওয়ার জায়গা নেই। তবে সমাবেশের লোক মাঠ ছাপিয়ে রাস্তায় ছাড়িয়ে গেছে। ফলে তালতলা, বন্দর, কিন ব্রিজ এলাকায় গাড়ির জট ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রন্টের নেতারা দাবি করছেন, হাজার হাজার মানুষ জড়ো হচ্ছেন সমাবেশে।
বুধবার দুপুর ১টার পর থেকে শত শত নেতাকর্মীদের মিছিল একে একে প্রবেশ করতে থাকে রেজিস্ট্রারি মাঠে। তবে শুরু থেকেই যেন ঐক্যফ্রন্টের এই সমাবেশ হয়ে উঠেছে বিএনপির সমাবেশ। মঞ্চ থেকে মাঠ, মাঠ পেরিয়ে রাস্তা, সবখানেই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান। সমাবেশ শুরুর আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়েছে। সমাবেশস্থলের প্রবেশপথে ও সামনের সড়কে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষণীয়।
দুপুর ২টার দিকে জেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল কাহের শামীমের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা শুরু হয়। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে নেতারা বক্তব্য রাখছেন। সবার বক্তব্যেই সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি উঠে আসছে।
বেলা আড়াইটা দিকে মঞ্চে ওঠেন সমাবেশের সভাপতি ও সিলেটের মেয়র বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধান অতিথি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুলতান মো. মনসুর, বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, তানিয়া রব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যোগ দিয়েছেন ২০ দলীয় জোটের কয়েকজন নেতাও। ইতোমধ্যে জোটের শরিক এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, জমিয়ত কাসেমী অংশের সহ-সভাপতি শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর ২৩ অক্টোবর সিলেটে প্রথম সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর অনুমতি নিতে মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে লিখিত আবেদন জমা দেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এরপর দ্বিতীয় দফায় বিএনপির ওই প্রতিনিধি দল ২৪ অক্টোবর সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পৃথক আরেকটি আবেদন পত্র জমা দেন। এরপর অনুমতি না পেয়ে ২১ অক্টোবর সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই দিন বিকালেই পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দেয়।
আরও পড়ুন-








