জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় উচ্চ আদালতের রায়ের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) খালেদা জিয়ার রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়াকে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করছি। রায়ের প্রতিবাদে দলের নতুন কোনও কর্মসূচি নেই জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের আগের যে কর্মসূচিগুলো ছিল সেগুলো বহাল থাকবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ রয়েছে। এই সংলাপে আওয়ামী লীগ কতটুকু আন্তরিক, সংলাপ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, তা জনগণ বুঝতে পারছে।
এই রায়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অনেকটা অযোগ্য হয়ে গেল। এই মুহূর্তে আপনাদের বাকি শর্তগুলো সরকার মেনে নিলে নির্বাচনে যাবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা নির্ভর করবে আমাদের (বিএনপি) আলোচনার পর।
সংলাপে বিএনপির অবস্থান কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান হবে ৭ দফা দাবি। একটাই অবস্থান। এর বাইরে কোনও অবস্থান নেই।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকপাল খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। এই রায় আমাদের পুরোপুরি স্তম্ভিত ও বিস্মিত করেছে।
রায়কে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অস্বাভাবিক এই রায়ে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করাই সরকারের উদ্দেশ্য। এতে একটা কথা পরিষ্কার, সরকার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে কোনোমতেই আগ্রহী নয়। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায় তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, মো. শাজাহান প্রমুখ।








