জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আগামী যেকোনও কর্মকাণ্ডে প্রতিনিধিত্ব করতে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগ-জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন মির্জা ফখরুল।
জোটের বৈঠকে অংশ নেওয়া শরিক দলগুলোর শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব বিষয় জানা গেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন ২০ দলীয় জোটের শরিকরা। জোটের নেতারা বলেন, এতদিন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীরা বলে এসেছেন কোনও সংলাপ হবে না। সেই জায়গা থেকে তারা সরে এসে সংলাপের জন্য রাজি হয়েছে। এটা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র জানায়, সংলাপে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তাও জানাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অনুরোধ করেন জোটের নেতারা। এর প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এরপর সংলাপে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তাও জোট নেতাদের ডেকে জানানো হবে।
বৈঠকে উপস্থিত দুই নেতা জানান, ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দল মির্জা ফখরুলের কাছে জানতে চেয়েছেন তারাও কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ চেয়ে চিঠি দেবেন কিনা। যদিও এই বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব কোনও উত্তর দেননি। বৈঠকে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল বিএনপি রয়েছে। তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ হবে। সুতারাং এর বাইরে জোটের কোনও দলকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করার প্রয়োজন নেই। কারণ, বিএনপি মহাসচিব ২০ দলীয় জোটের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপকে স্বাগত জানিয়েছে জামায়াত। বৈঠকে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, আমরা সংলাপের সাফল্য কামনা করি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে এগিয়ে নিতে বিএনপির যা যা করণীয় দরকার করবে। এখানে আমরা কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবো না।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপকে জোটের নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ, আওয়ামী লীগ নেতারা এতদিন সংলাপকে না বলে এসেছে। এখন তারা সংলাপে রাজি হয়েছে এটা ইতিবাচক দিক।








