জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট নেতাদের সংলাপ শুরু হয়েছে। বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি, অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি. চৌধুরী) নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ দিকে গণভবনে যান।
সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ,দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা, বিএলডিপি সভাপতি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, বিএলডিপি সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ এর সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, বাংলাদেশ জনতা পার্টির সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাহবুব আলী, বাংলাদেশ জন দলের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইউনাইটেড মাইনরিটি ফ্রন্টের চেয়ারম্যান দীলিপ কুমার দাস, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য, সাবেক এমপি, মজহারুল হক শাহ্ চৌধুরী এবং এনডিপি মহাসচিব মো. মাযহারুল হোসেইন ঈসা। এই সংলাপে নৈশভোজে পাঁচ পদের খাবার খেতে চেয়েছেন বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৯ অক্টোবর সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছিলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি, অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি. চৌধুরী)। পরের দিন ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জোটকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেন। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের চিঠি বি. চৌধুরীর বারিধারার বাসায় পৌঁছে দেন। চিঠিতে শুক্রবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে বিকল্পধারা নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সরকারের সংলাপের সময় নির্ধারণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা বি. চৌধুরীর চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি যে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সংলাপের কোনও বিকল্প নেই। সেই প্রস্তাবটি আপনি গ্রহণ করেছেন। আমরা খুশি হয়েছি, আপনি নির্বাচন সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন। এজন্য আপনাকে বাংলাদেশ যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপে বসার জন্য আপনার সময় ও সুবিধামতো আমন্ত্রণ জানালে খুশি হবো। জাতির এই রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সবার শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে বিশ্বাস করি।’
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে আ স ম আব্দুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ জোট ঘোষণা করা হয়। জোট গঠনের পর থেকে কাদের সিদ্দিকী এই ব্যানারে আর কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। এই বছরের ২০ জুলাই তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘যুক্তফ্রন্ট এখনও প্রেস কনফারেন্স করে নাই, কিংবা প্রকাশ্যে কোনও আলোচনাও করে নাই। এখনও বলতে পারি না আমি আছি না নাই।’
এরপর গত ১৩ অক্টোবর প্রেসক্লাবে বিএনপি-জাতীয় ঐক্য, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে যুক্তফ্রন্টের বাকি দুই শরিক জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য জোট থেকে বেরিয়ে যায়। এদিকে গত ১৬ অক্টোবর ২০ দলীয় জোট ছেড়েছেন বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি।
এরপর গত ১ নভেম্বর যুক্তফ্রন্টে যুক্ত হয়েছে আরও ছয়টি দল। দলগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, জাতীয় জনতা পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ মাইনোরিটি ইউনাইটেড ফ্রন্ট। এছাড়া বিকল্পধারায় যোগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতা মো. গোলাম রেজা, গণফ্রন্ট নেতা কামাল পাশা, মুসলিম লীগ নেতা নূর এ আলম, জনদল নেতা জয় চৌধুরী ও খলিল চৌধুরী।








