সরকারের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফার সংলাপেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন সরকারদলীয় মুখপাত্র সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে সংলাপে কোনও আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। এছাড়াও খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আলোচনাটি সাংবাদিকদের বানানো বলেও অভিযোগ করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি জামিনে মুক্তি পেলে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। অন্যদিকে, ফখরুল বলেছেন, খালেদা জিয়া আইনগতভাবে জামিন ও মুক্তি পাওয়ার যোগ্য। তবে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
বুধবার (৭ নভেম্বর) গণভবনে সকাল ১১টার সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারপক্ষের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। টানা তিনঘণ্টাব্যাপী সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সরকার দলীয় মুখপাত্র সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় সংলাপের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়ে সংলাপে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা আসলে খালেদা জিয়ার জামিন চাইছেন। তারা মুক্তি ওইভাবে চাননি। আর আপনারাই (সাংবাদিক) প্যারোল বানিয়েছেন। তারা কিন্তু প্যারোল বলেননি। এ ব্যাপারে আমরা বলেছি যে এই মামলাটি যারা করেছে তারা সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার। মামলাটি করেছে ২০০৭ সালে। এবং দেখতে দেখতে ১১ বছর পার হয়ে গেছে। এই মামলাটা আগেই নিষ্পত্তি করা যেতো। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না বা তারা এ ব্যাপারে সিরিয়াস ছিলেন না। যে কারণে এ মামলা প্রলম্বিত হয়েছে। রায় দিতে দেরি হয়েছে। আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছে। আদালতে তারা লিগ্যাল ব্যাটেলে যেতে পারে। জামিন চাইতে পারেন আদালতের কাছে। আদালত যদি তাকে জামিনে মুক্তি দেয় আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’
অন্যদিকে,সংলাপ শেষে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসায় বিকাল ৪টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,‘আমাদের ৭ দফার প্রথমে ছিল, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সংসদ ভেঙে নির্বাচন। দ্বিতীয় দফাতে ছিল নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন। এসব বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা প্রস্তাব করেছি এসব বিষয়ে আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনও প্রস্তাব দেইনি। আমরা বলেছি, তিনি তো আইনগতভাবে মুক্তি ও জামিন পাওয়ার যোগ্য। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে এই আলোচনার কোনও সম্পর্ক থাকবে না। প্রয়োজনে পরে আবারও তফসিল ঘোষণা করা যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ নভেম্বর প্রথম দফার সংলাপেও ঐক্যফ্রন্টের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের ১৬ জন নেতার বক্তব্যে খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিকে অবিলম্বে মুক্তির বিষয়টি উঠে আসে। সে সময় এসব নেতার আহ্বানের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দায়ের করা। আইনি প্রক্রিয়ায় এর সমাধান করতে হবে।
পরে একই প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘এটা তো আইনি বিষয়। আমার তো মনে হয়, সংলাপের মধ্যে এটা আসতে পারে না। খালেদা জিয়া যে দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলেন, এই মামলাগুলো কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেওয়া।’








