ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে ১০টি আসন চায় সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোট। শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) জোটের পক্ষ থেকে ১০টি আসন চেয়ে প্রস্তাব জানানো হলেও তাদেরকে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি আওয়ামী লীগ।
সাতটি দল নিয়ে ১৩ দিন আগে গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে এ জোট গঠিত হয়। পরবর্তীতে আরও দুটি দল এ জোটে যুক্ত হয়। জোটের দলগুলো অনিবন্ধিত হলেও আওয়ামী লীগের আনুকূল্য নিয়ে ক্ষমতায় যেতে তৎপর এ জোটের নেতারা।
জানা গেছে, সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খান। তিনিই একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামেরও শীর্ষ নেতা। শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) জাফরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যদের প্রতিনিধি দল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জোটের ১০ নেতার জন্য ১০টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের প্রস্তাব আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে ফের বৈঠকে করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়ে লিখিতভাবে সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের কাঙ্ক্ষিত আসনের তালিকা দেওয়া হয়। তালিকায় জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের জন্য নেত্রকোনা-২ (সদর), জোটের মহাসচিব ও ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খায়রুল আহসানের জন্য কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী), বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মুফতি ফখরুল ইসলামের জন্য নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া), রিভারেল পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা ইরফান বিন তুরাব আলীর জন্য কুমিল্লা-৮ (বরুড়া),ইসলামী ডেমোক্রেটিক ফোরামের চেয়ারম্যান মাওলানা হারিসুল হকের জন্য নরসিংদী-৪,ন্যাশনাল উলামা ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা রুহুল আমীনের জন্য ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল),বাংলাদেশ মুসলিম জনতা পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমানের জন্য হবিগঞ্জ-৪, বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কাজী মাসউদুর রহমানের জন্য কুষ্টিয়া-১, বাংলাদেশ গণ কাফেলা’র সভাপতি হাকিম গোলাম মোস্তফার জন্য শেরপুর-৩, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (একাংশ) মহাসচিব মাওলানা মুহিব্বুল্লা আশরাফের জন্য ঢাকা-২ (কামরাঙ্গীরচর) আসনের জন্য প্রস্তাব দেয়।
এপ্রসঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খায়রুল আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত। আমরা নৌকা প্রতীকে ভোট করতে আগ্রহের কথা আওয়ামী লীগকে জানিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন। তারা আমাদের সঙ্গে আবারও বসবেন বলে জানিয়েছেন।’
সূত্র জানায়, ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে সাতটি দলের সমন্বয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোট’ নামে নতুন এ জোটের আত্মপ্রকাশ হয়। এ জোটের শরিক সাতটি দল হচ্ছে— বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন, ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ, লিবারেল পার্টি, ইসলামী ডেমোক্রেটিক ফোরাম, ন্যাশনাল উলামা ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ মুসলিম জনতা পার্টি। পরবর্তীতে এজোটে যোগ দেয় বাংলাদেশ গণ-কাফেলা ও বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি।
এদিকে, ১৩ দিন আগে জোট গঠিত হলেও ৩০০ আসনে নির্বাচনে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মুফতি ফখরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে জনসেবা আন্দোলনের কার্যক্রম শুরু করেন। মুফতি ফখরুল একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন।
মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জোট থেকে ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তিুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে এ জোটের ১৭২৪টি মনোনয়ফরম বিক্রি হয়েছে। ৩০০ আসনে নির্বাচনের অংশ নেওয়ার কথাই আজকে (শনিবার) বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আমরা ১০টি আসনের নিশ্চয়তাও চেয়েছি।








