বিএনপির পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিথ্যাচারের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছেন। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে এখন কার্যালয় বলা যাবে না, এটা মিথ্যাচারের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।’
বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রচার কমিটির সভা শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সেখান থেকে সকালে একবার এবং বিকালে একবার সংবাদ সম্মেলন করা হয়। রিজভী আহমেদ না থাকলে তাদের অন্য নেতারা করেন। সেটাকে রাজনৈতিক কার্যালয়ের পরিবর্তে মিথ্যাচার কার্যালয়ে পরিণত করেছেন তারা।’
বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে তাদের দলের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনও রাজনৈতিক দল ৩০০ আসনে ৮০০ মনোনয়ন দেয়নি। এই ৮০০ নমিনেশন দেওয়ার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে মনোনয়ন বাণিজ্য। এই মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে তাদের পার্টি অফিসে মারামারিও হয়েছে। এতগুলো মনোনয়ন দেওয়ার পর তাদের ৫৫৬ জনের মনোনয়ন টিকেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বাছাইয়ের পর এতগুলো মানুষের মনোনয়নপত্র টিকেছে, এরকম ঘটনা আগে ঘটে নাই। তারা যার কাছ থেকে চাঁদা পেয়েছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। এমনকি আমার নির্বাচনি এলাকায় ৫ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে।’
নির্বিচারে মনোনয়ন দেওয়ার সময় বিএনপি কোনও কিছুই দেখে নাই দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বিচারে মনোনয়ন দেওয়ার সময় তারা দেখেও নাই যে তারা ঋণখেলাপি কিনা, বিলখেলাপি কিনা, দণ্ডপ্রাপ্ত কিনা। একটা নাটক মঞ্চস্থ করার জন্যই তারা এভাবে মনোনয়ন দিয়েছে। আর অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ছিল। যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিল, তাদের কাছ থেকে আবেদনের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে তারা ঋণখেলাপি কিনা, বিলখেলাপি কিনা, সাজাপ্রাপ্ত কিনা। এরপর যখন খসড়া তালিকা হয়েছে প্রত্যেক প্রার্থীর রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তারপর মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এরপরও আওয়ামী লীগের কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এমনকি আমাদের জোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির মহাসচিবের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আর বিএনপি তো এগুলো বাছবিচার না করে ৮০০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। এজন্য আমি রিজভী আহমেদকে অনুরোধ করবো, কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে মিথ্যাচারের কেন্দ্র না নির্বাচন পরিচালনার কাজে ব্যবহার করুন। তাহলে আপনাদের দল উপকৃত হবে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রচার কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, অরুণা বিশ্বাস, শাকিল খান, রিয়াজ, ফেরদৌস প্রমুখ।








