বিএনপির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ছোট করলে, তার অধীনে নির্বাচন করছেন কেন?
বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রচার কমিটির সভাশেষে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমি বিএনপি নেতাদের বলছি, আপনারা যদি নির্বাচন কমিশনকে এত ছোটই করবেন, তাহলে তার অধীনে নির্বাচন করছেন কেন? নির্বাচন তো নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করছে। সরকার তো রুটিন কাজের বাইরে কিছু করছে না। সরকারের দায়িত্ব নিরাপত্তা বিধান করা, সেটা তো আমরা করবোই এবং নির্বাচন কমিশন যখন যা বলছে, আমরা কিন্তু কোনও কথা বলি না।’ তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ৭ লাখ সিভিল অফিসার অংশগ্রহণ করবে, নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে সেনাসহ প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এত বিশাল বাহিনী, এত কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে যে নির্বাচন কমিশন তাকে আমরা ছোট করবো? তার মর্যাদা রক্ষা তো আমরাই করবো।’
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) তৈরি করেছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই কো-চেয়ারম্যান বলেন, ‘সেই আরপিও’র ওপর নির্ভর করে এখন পর্যন্ত নির্বাচন হয়ে এসেছে। আর সেই আরপিওতে যত ধরনের সংশোধনী এসেছে, সব আওয়ামী লীগ করেছে। এটি আর কেউ করেনি। আওয়ামী লীগ চায় নির্বাচন কমিশন এমন একটি উচ্চতায় থাকুক, যেখানে কেউ তাকে স্পর্শ করতে না পারে। আমরা তাকে সেই সম্মান দিতে চাই।’
বিএনপিতে জঙ্গি এবং তাদের মদতদাতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে দাবি করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আপনারা কি জানেন বিএনপি থেকে কতজন জঙ্গি এবং জঙ্গিদের মদতদাতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে? আমি নাম বলছি, ২০০৩-০৪ সালে বাংলাভাইয়ের উত্থান, জেএমবির উত্থান হয়েছিল রাজশাহী অঞ্চলে। প্রথমে বাগমারাতে, এরপর রাজশাহী শহরেও। এ সময় বাংলাভাইয়ের যারা প্রকাশ্যে গাছে ঝুলিয়ে মানুষ হত্যা করে, সেসব লোককে নিয়ে রাজশাহী শহরে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে যারা, তার মধ্যে নাদিম মোস্তফা, আবু হেনা, নাটোরের দুলু—এরা প্রত্যেকেই এবার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী। এখন বুঝতে পারেন, কী ধরনের মানুষ তারা নিয়ে এসেছে!’
জামায়াতের যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তারা বিএনপির সদস্য কিনা প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি থেকে ২৬ জন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগের যাদের মনোনয়ন দিয়েছি তাদের জন্য প্রাথমিক যোগ্যতা ছিল আওয়ামী লীগের সদস্যপদ। দলের সদস্য না হলে কেউ মনোনয়ন চাইতে পারেন না। এখন জামায়াতের যাদের মনোনয়ন বিএনপি দিলো, এরা কি বিএনপির সদস্য, নাকি ডেকে এনে সদস্য করেছে? এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১৫-২০টা করে জঙ্গিবাদী মামলা আছে। এখন এগুলো যদি রিটার্নিং অফিসাররা বিবেচনা না করেন, তাহলে তো আমাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায়। আমরা তো অবশ্যই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবো।’
এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রচার কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এছাড়াও প্রচার কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, অরুণা বিশ্বাস, শাকিল খান, রিয়াজ, ফেরদৌস প্রমুখ।








