বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ফেরতের আপিল নামঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বিরোধিতার মুখে ইসির সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমতের ভিত্তিতে শনিবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার আপিল নাকচ করে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। ফলে খালেদা জিয়া আপাতত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
শনিবার দুপুরের আগেই খালেদা জিয়ার তিনটি আপিল একই সঙ্গে শুনানি হয়। পরে কমিশন বিকাল ৫টায় আবার শুনানি হবে উল্লেখ করে আপিল শুনানি স্থগিত রাখেন। বিকালে কমিশন পেন্ডিং আপিলগুলো শুনানির অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার আপিলের বিষয়টি আসে। এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নাল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তারা আইনের ধারা উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার পক্ষে রায় দাবি করেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বিপক্ষে মত তুলে ধরেন। এ সময় কোনও পক্ষের আইনজীবী না হওয়ার পরও ইউসুফ হোসেনের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এ জে মোহাম্মদ আলী। তাকে উদ্দেশ করে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘হু আর ইউ’। ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ছাড়াও আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের বেশ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনার পরপরই কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক যথাক্রমে ফেনী-১, বগুড়া ৭ ও ৮ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে যে আপিল দায়ের করা হয়েছে, তা আইনগত বিশ্লেষণ করে আমার রায় এই আপিল মঞ্জুরের পক্ষে। আমি এই আপিল মঞ্জুর করলাম।
মাহবুব তালুকদারের পরপরই বিএনপির আইনজীবীরা উল্লাস করে কোর্ট রুমের পেছনের দিকে চলে যেতে উদ্ধত হন। অন্যদিকে আওয়ামী আইনজীবীরা এর বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আপনারা ঠান্ডা হয়ে বসুন। এই রায় পূর্ণাঙ্গ নয়, এটি মাত্র একজনের রায়।’
তখন উত্তপ্ত আদালত কক্ষেই কমিশনার রফিকুল ইসলাম তার রায় ঘোষণা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তরা নির্বাচন করতে পারেন না। এ কারণে খালেদা জিয়ার আপিল নামঞ্জুর করা হলো।’
এরপর কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরীও একই রায় দেন।
কমিশনার কবিতা খানমও এই দুই কমিশনারের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, ‘খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে নৈতিক স্থখলনজনিত কারণে দণ্ডিত হয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) এখন কারাগারে। তার দণ্ড স্থগিত হয়নি। মনোনয়নপত্র বাতিল করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা যে আদেশ দিয়েছেন, তার স্পিরিট বিবেচনা করে সেই অনুযায়ী আপিল নামঞ্জুর করা হলো।’
এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘আমি আমার কমিশনার রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন ও কবিতা খানম—এই তিনজনের পক্ষে রায় দিলাম। এই আপিল আবেদন মঞ্জুর হয়নি।’ পরে ইসি সচিব বলেন, ‘৪-১ ভোটে এই আপিল নামঞ্জুর হলো।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করা হয়। তিনি ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে মোট ৩০৬৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। রিটার্নিং অফিসাররা যাচাই-বাছাই করে তার মধ্যে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে ঘোষণা করে বাতিল করেন। সোমবার থেকে নির্বাচন কমিশন এসব বাতিল মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ শুরু করে। গত দুই দিন ৩১৮ জন প্রার্থী কমিশনে আপিল করেছেন।








