উন্নয়ন প্রচারে ছাত্রলীগকে আসনভিত্তিক ছোট দল গড়ার পরামর্শ মোস্তফা জব্বারের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২০আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩:১১

ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সাবেকমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার



সরকারের উন্নয়ন প্রচারে ছাত্রলীগকে আসনভিত্তিক ছোট ছোট দল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ২০১৮-এর আওতাধীন তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা জব্বার। 
শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-২০১৮-এর আওতাধীন তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির উদ্যোগে “ডিজিটাল ইলেকশন ক্যাম্পেইন” শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এই আহ্বান জানান। 

মোস্তফা জব্বার বলেন, আমরা দেখেছি যে কেন্দ্রীয় ভাবে নৌকার প্রচার করতে পারি কিন্তু আঞ্চলিকটা পারি না। অর্থাৎ আসনভিত্তিক যেই প্রচারটা করা দরকার সামাজিক মাধ্যমে সেই ক্ষমতা আমাদের নেই, কারণ আমাদের কাছে সেই তথ্য নেই। আমার শেখ হাসিনা ব্র্যান্ড আছে, নৌকা মার্কা আছে কিন্তু আমার তো তাকে জিতিয়ে নিয়ে আসতে হবে। একারণে প্রতিটি আসনে একটি ছোট দল গড়ে তুলতে হবে। 

সবাই একত্রিত হলে চার কোটি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশে ১০ কোটি ভোটার থাকে তাহলে তার মধ্যে চার কোটি মানুষের জনপ্রিয় জায়গা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। চার কোটির মধ্যে সাড়ে তিন কোটি পাওয়া যাবে যে শুধু ফেসবুক ব্যবহার করে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের টুইটার একাউন্টে ৩ লাখ ৭১ হাজার ফলোয়ার আছেন। তিনি যখন টুইট করেন সেটি তাৎক্ষণিক ভাবে ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। আমার ধারণা আপনাদের মধ্য থেকে অনেকের ফেসবুক পেজ আছে যেখানে লাইকের সংখ্যা লাখ লাখ। যদি এই ৪০ লাখ ছাত্রলীগ কর্মী সব লাইক, ফেসবুক ফলোয়ার, ফ্রেন্ড এক জায়গায় করা যায়, তাতে ওই চার কোটি লোকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। 

ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার কাজ যে কোনও জায়গায় বসে করা যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের যদি এদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা থাকে, তাহলে সবার আগে প্রয়োজন তার পাশের জনের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরা। এই কাজটি যেকোনও জায়গায় বসে করা যায়। আমি যদি সেই কাজটি করতে পারি তাহলে কেন এই হাতিয়ার ব্যবহার করবো না? এখানে নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত প্রতিটি আসনের সমন্বয়কারীরা আছে। আমাদের প্রথাগত নির্বাচন যেটা আছে সেটা চলবে। মিছিল, মিটিং, পোস্টার, লিফলেট এগুলো তো করবোই। কিন্তু একলা যেই কাজটা করতে পারবো সেটা করবো না কেন? এ জন্যে ছোট্ট একটা স্মার্ট ফোন দরকার আর ইন্টারনেট দরকার। আমাকে আগে বললে ইন্টারনেট ফ্রি করে দিতাম। কিন্তু এখন তো মন্ত্রী নই, তাই পারবো না। আমি ৫৪৭ টি স্কুলে ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগের অনুমোদন দিয়ে এসেছি, আগামী জানুয়ারি নাগাদ চালু হয়ে যাবে। এর কারণ হলো তোমাদের হাতে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো ইন্টারনেট। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনসহ যাই কিছু চিন্তা করো তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ারের নাম ইন্টারনেট। এই ইন্টারনেটকে যেভাবে ব্যবহার করবে, সেখানেই তোমার দক্ষতা। তাই আমি ছাত্রলীগের সমন্বয়কারীদের বলতে চাই, তোমরা যেখানেই যাও, কাউকে না কাউকে পাবে যার স্মার্টফোন আছে। তাকে কাজে লাগাও। 
এই কর্মশালায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠন করা সমন্বয়ক কমিটির প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

“ডিজিটাল ইলেকশন ক্যাম্পেইন” প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ কমিটির ‘জয় বাংলা’ নামক একটি মোবাইল অ্যাপস প্রদর্শন করা হয়। এ অ্যাপসের ব্যবহার সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই অ্যাপসটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন। এই অ্যাপসটির মাধ্যমে সকল গুজব প্রতিরোধসহ আওয়ামী লীগে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে প্রচার করা যাবে। অ্যাপস ব্যবহারকারীদের সকল তথ্য কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে সংরক্ষিত থাকবে। প্রাথমিক ভাবে এই অ্যাপসটিতে ১ কোটি মানুষকে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অ্যাপসের ব্যবহার বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করেন আইইবি’র কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের চেয়ারম্যান এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মাহফুজুল ইসলাম। ‘ইফেকটিভ ইউজ অব সোশ্যাল মিডিয়া টুলস’ এর ওপর আলোকপাত করেন তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক। ক্যাম্পেইন ইন টুইটার শীর্ষক আলোচনা করেন টিআইএম নূরুল কবির। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-২০১৮-এর আওতাধীন তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন প্রকৌশলী তানভির আরাফাত। আইইবি’র কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সেক্রেটারি প্রকৌশলী মো. রনক আহসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

/এসও/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান