প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যা করবেন, তা আগেই বলে দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিএনপি নাকি নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছাপাবে, সেটি তো আপনাদের (আওয়ামী লীগ) কাজ। আপনাদের সেই ক্ষমতা আছে, সেটা করবেন। ব্যালট ছাপাবেন, আর সে কথা আগাম বলে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন ফখরুল।
৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় মনে করেছি, এ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। একটি দিন তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, মানুষকে সেই অধিকার থেকেও বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ৩টি নির্বাচনে দেশের মানুষ আশার আলো দেখেছিল দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বুঝতে পারলো, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা তারা ধরে রাখতে পারবে না, তখনই একটি রায়ের মাধ্যমে সেটি বাতিল করে দিলো। অথচ আদালতের রায়ে মতামত ছিল—তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান রাখা যেতে পারে, অথবা আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে আদালত যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, সেটিও পাশ কাটিয়ে গেছে সরকার।’
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ‘‘খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন—‘জাতীয় ঐক্য গঠন করবা সব রাজনৈতিক দল, মত, ধর্ম-বর্ণের মানুষদের নিয়ে। এবং তোমরা নির্বাচনে অংশ নেবে।’ আমরা তার কথা পালন করেছি, জাতীয় ঐক্য গঠন করেছি, নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’’
বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে থেকেই এ নির্বাচন নিয়ে যে মতমত প্রকাশ করেছিল, এখন সেসব একে একে ফুটে উঠেছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘যতই ধানের শীষের জোয়ার উঠছে, ততই সরকার নতুন নতুন চক্রান্ত করছে। আমাদের অনেক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে। এক্ষেত্রে সরকার আদালতকে ব্যবহার করছে। কিন্তু এরপরও আমরা দমে যাইনি।’
বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর সরকার গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘এখন আবারও মামলা দিচ্ছে নতুন করে। এমনকি সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন তফসিল ঘোষণার পর আর কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। কিন্তু তিনি তার কথা রাখেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ওপর এত নির্যাতনের পরও বলতে পারেন আমরা কীভাবে টিকে আছি। টিকে আছি শুধু মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে। যেখানে যাচ্ছি মানুষ ছুটে আসছেন। আমরা মানুষের ভালোবাসার শক্তির ওপর টিকে আছি।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের শেষ নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এর মাঝে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো জানি না। আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আর ইসির কথা তো আগেই বলেছি— নির্বাচন কমিশন ঠুটে জগন্নাথ। তাদের কোনও ক্ষমতা নেই। দুই দিন আগেও আমরা গিয়েছি, তারা কোনও কথার উত্তর দেয়নি, শুধু চুপ করে ছিলেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে আমরা কি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে থাকবো, নাকি একনায়কের দেশে থাকবো। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার থাকবে কী থাকবে না, তা এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হবে।’
আমরা চেষ্ট করছি জনগণকে জাগিয়ে তুলতে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ রাষ্ট্র তাদের, তাদেরকে সব অন্যায়, অবিচার, অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায় করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এ লড়াইয়ে আমরা জয়ী হবো। কারণ, মানুষের কথা, তাদের চোখে যে বিশ্বাস দেখেছি, তাতে আমাদের বিজয় আসবে।’








