গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং তার দলের দুই প্রার্থী নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন। জোনায়েদ সাকি ঢাকা-১২ আসন থেকে কোদাল মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তার দলের দুই প্রার্থী জুলহাসনাইন বাবু পাবনা-১ আসনে এবং হাসান মারুফ রুমী চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণসংহতি আন্দোলনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন জোনায়েদ সাকি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন কতটা সরকারি দাসবৃত্তি করেছে, সেটা আপনারা আজ দিনব্যাপী দেখেছেন। এই রকম আতঙ্কের পরিবেশে এর আগে কোনও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।’
জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করেন, ‘ঢাকা-১২ আসনে প্রায় সব কেন্দ্রে সকাল থেকেই পোলিং এজেন্টদের নানাবিধ হয়রানি করা হয়েছে। এজেন্টদের কার্ড না দেওয়া, কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া, এজেন্টদের মারধরের মুখেও পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা-এসব ছিল সাধারণ ঘটনা। প্রতিবাদ করায় মারধর করে এজেন্টকে ধরে নিয়ে স্থানীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘কেন্দ্র দখল করে অবাধে সিল মারা, ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, নৌকা কিংবা লাঙ্গল প্রতীকে সিল মারতে বাধ্য করার অজস্র ঘটনা ঘটেছে। ভোটারদের মারধর করা, প্রার্থীদের ওপর হামলা, নির্বাচনি এজেন্টদের ওপর হামলার দৃশ্যও আপনারা দেখেছেন।’
জোনায়েদ সাকি আরও অভিযোগ করেন, ‘সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ না দিয়ে এই পাতানো নির্বাচনের আয়োজন নিশ্চিত করা হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করে সংবাদ ও তথ্য সরবরাহ কার্যত রুদ্ধ করে ভয়ের আবহকে বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কেন্দ্রের ভেতরে গণমাধ্যমকর্মীরা ঢুকতে না পারায় ভেতরের দৃশ্যও তারা ধারণ করতে সক্ষম হননি। ২০১৪ সালের পর পুলিশি-প্রশাসন ও সরকারি দলের যৌথ প্রযোজনার এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি করছি, এই নির্বাচন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।’








