একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) শপথ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের টিকিটে বেশ কয়েকজন তরুণ সংসদ সদস্য। নওগাঁ-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন জলিল জন, চট্টগ্রাম-৯ থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শরীয়তপুর-১ আসন থেকে ইকবাল হোসেন অপু এদের অন্যতম। শপথ নেওয়ার পর বাংলা ট্রিবিউনের কাছে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন জলিল জন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলিলের ছেলে। বাবার আসনটিতে এবারই প্রথম নির্বাচনে নেমে জয়ের দেখা পেয়েছেন তিনি। শপথ নেওয়ার পরে জন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘পিছিয়ে পড়া নওগাঁকে একটি আধুনিক শহর ও একটি অগ্রসর জেলায় পরিণত করতে চাই।’ এছাড়া নওগাঁয় গ্যাস সংযোগ, নাটোরের সঙ্গে বাইপাস রোড, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে কাজ করার প্রত্যয় এবং জেলা থেকে মাদক নির্মূলের সর্বশক্তি নিয়োগ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার বাবার (আব্দুল জলিল) স্থলে এমপি নির্বাচিত হয়েছি। বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে নওগাঁর মানুষ আমার বাবাকে মন থেকে ভালোবাসতেন। তাকে জনগণ পছন্দ করতেন। আমি সেই জনগণের প্রতিনিধি হয়েছি এবং তাদের জন্য আমার বাবার মতো করে কাজ করতে চাই।’
তিনি নৌকা থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও জাতীয় সংসদে একেবারে নতুন মুখ। তার বাবা প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী ও নগরীর সাবেক মেয়র। শপথ নেওয়ার পরে তিনি বলেন, ‘আমি আমার বাবা প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো আমার সবকিছু দিয়ে জনগণের পাশে থাকবো। তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে অভিভূত হয়েছি এই দেখে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আকর্ষণ সাধারণ মানুষের কাছে ম্যাজিকের মতো। সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের প্রতি সম্পূর্ণরূপে আস্থাশীল। প্রধানমন্ত্রী যেমন মনে করেন, এটি ক্ষমতা নয় দায়িত্ব। আমিও মনে করি, জনগণের সেবা করা আমার দায়িত্ব।’
নৌকায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শরীয়তপুর-১ (সদর ও জাজিরা) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুও আসনটিতে নতুন মুখ। এর আগে দশম সংসদে এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন বি এম মোজাম্মেল হক। তার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েই আসনটি থেকে নির্বাচিত হন মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয় এই নেতা। অপু তার এলাকাবাসীর দুঃখ দুর্দশা ঘোচাতে নিবেদিত হতে চান। শপথ নেওয়ার পর বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকা একটি নদীভাঙন কবলিত এলাকা। বন্যায় এখানকার মানুষের দুর্দশা লেগেই থাকে। আমার প্রথম কাজ হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বন্যা কবলিত মানুষের দুঃখ, দুর্দশা দূর করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার নির্বাচনি অঞ্চলের অবকাঠামো শহরের আদলে গড়ে তুলতে চাই। সব ইস্যুতে জনগণের পাশে থাকতে চাই।’
এ সময় তিনি জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।








