একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের দুই জয়ী সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানকে জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এ বিষয়ে পুরো ‘পরিস্থিতি বুঝিয়ে’ বলবেন ড. কামাল হোসেন। বুধবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে গণফোরামের কাউন্সিল প্রস্তুতি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে মতিঝিলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ওই বৈঠকেই সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানকে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন।
মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে কামাল হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি বোঝাবো। তাদের বোঝার কথা, তাদের নিজেদের বুঝা উচিত। সিদ্ধান্ত যেটা আছে, সেটা উপেক্ষা করেতো তাদের কিছু করার কথা না।’
গণফোরামের তথ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক জানিয়েছেন, বুধবার বুধবার বিকাল ৪টায় ২/১-এ, আরামবাগ, ইডেন কমপ্লেক্সে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বক্তব্য রাখবেন।
কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার বিকালে আমি বিস্তারিত বলবো।’
তিনি জানান, বুধবার সকালের দিকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান তার (ড. কামাল) সঙ্গে দেখা করতে পারেন। দেখা করার সময়েই মূলত তিনি জানতে চাইবেন— কেন তারা সংসদে যেতে চাইছেন।
গত কয়েকদিন ধরেই গণমাধ্যমে নির্বাচিত এই দুই ব্যক্তি বলে আসছেন, তারা শপথের বিষয়ে ইতিবাচক। যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শুরু থেকেই বলে এসেছে, একাদশ জাতীয় সংসদে তাদের নির্বাচিতরা অংশ নেবেন না। সোমবার (২৮ জানুয়ারি) গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘গণফোরামের সংসদে যোগ দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। গণফোরামসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনও সদস্যের শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল আছে।’
সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার বিষয়ে কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা তো কারণ ছিল না। আমাদের দলের সেক্রেটারি তো বিবৃতি দিয়েছেন। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমি দেখি, তারা হয়তো দেখা করবে। সেটা ধরে নিচ্ছি। পার্টির বৈঠক আছে। বিস্তারিত জানতে চাইবো।’
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান দুজনেই কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার বিষয়টি জানান। তারা বুধবার সকালের দিকে গণফোরাম সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
শপথ নেওয়ার বিষয়ে সুলতান মনসুর মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় এ রিপোর্ট লেখা অব্দি সংসদে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করে চলেছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমি তো গণফোরামের অত বড় কেউ না। নির্বাচন করতে হলে দল লাগে, আমি সে কারণেই সেখানে গিয়েছি। কাল স্যারের সঙ্গে দেখা হতে পারে। আমি এখনও শপথ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক।’
তবে মোকাব্বির খান বললেন, ‘দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ মঙ্গলবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমি দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্য। আমার অবস্থান আমি ব্যক্ত করবো। তবে দল যা চাইবে, তাই হবে। দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।’
জানা গেছে, গণফোরামের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে ঐক্যফ্রন্ট। কামাল হোসেন পাঁচ দলীয় এ ফ্রন্টের আহ্বায়ক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক হবে।’
গণফোরামের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সুলতান মনসুর শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত না মানলেও সমস্যা নেই। যেহেতু নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ মার্কায় তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, সে কারণে বিএনপির কাছেই তার ভাগ্য। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত কয়েক সপ্তাহ আগেই বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘সুলতান মনসুর শপথ নিতে গেলেও বিএনপির সঙ্গে কথা বলেই করতে হবে।’
গণফোরামের একটি সূত্র জানায়, মোকাব্বির খান লন্ডন প্রবাসী ছিলেন। তাকে সেখান থেকে দেশে আনার পেছনে ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর ভূমিকা আছে। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মুনতাসির আলীকে ফোন করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।








