কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দু’দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, খালেদা জিয়াসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দি নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া, একই দাবিতে ৯ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী (ঢাকা মহানগর বাদে) প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।
সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
রিজভী বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে গতকাল (রবিবার) ১০৯২ দিন পর কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন জাহালম। নির্দোষ জাহালম এতদিন কারাগারে ছিলেন শুধু আওয়ামী সরকারের ক্ষমতা-আশ্রিত দুদকের রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে। বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশনে আসীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারের প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের অত্যাচারী মেশিন ছাড়া আর কিছুই নয়।’
বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করতে গিয়ে দুদক বেপরোয়া অনাচারে লিপ্ত থেকে মনুষত্বহীনতার ডালপালা বিস্তার করেছে, এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এতে নির্দোষ-নিরীহ-নিরপরাধ মানুষও দুদকের দায়ের করা মিথ্যা মামলার অমানবিকতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ভুয়া ভোটের সরকারের চাহিদা মেটাতে গণতান্ত্রিক শক্তিকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।’
দুদক সরকারের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়েছে বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘এই দুদক আইনি নিয়ম-কানুন কিছুই না মেনে আওয়ামী সরকারের শীর্ষব্যক্তির নির্দেশেই দেশের খালেদা জিয়াকে আটকিয়ে রাখতে মামলা সাজিয়েছে। বিরোধী শক্তিকে দমন করতে আওয়ামী অবৈধ গোষ্ঠীর একটি হাতিয়ার হলো বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন।’
দুদকের কারণেই দেশে ‘ক্রিমিনাল ইকোনমি’র আশকারা পেয়ে পত্র-পল্লবে বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘জাহালমের দীর্ঘদিন কারাভোগের ঘটনায় দুদকের ভূমিকা নজিরবিহীনভাবে ন্যক্কারজনক। এ ঘটনায় দেশে একটি ‘ক্রিমিনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর ছবিই ভেসে ওঠে।’








