খালেদা জিয়াকে প্রপার ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (৩ মার্চ) নাইকো দুর্নীতি মামলায় ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে হাজিরা দেন এ মামলার আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে আদালত থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে প্রপার ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র একদিন এসে ডাক্তার দেখে গেছেন। এখন পর্যন্ত পরীক্ষার জন্য তার রক্তের নমুনা নেওয়া হয়নি। তিনি একজন ডায়াবেটিসের রোগী। নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা দরকার, তাও করা হচ্ছে না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মামলাগুলো থেকে তার (খালেদা জিয়া) জামিন পাওয়া উচিত, কিন্তু জামিন তো পাচ্ছেন না। আমরা তো লিগ্যাল মুভ করছি।’
রবিবার দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তার এজলাসে আসেন ১২টা ৩৭ মিনিটে। এরপর শুনানি শুরু হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষ হয় ১টা ৪৮ মিনিটে। আদালতে পুরোটা সময় খালেদা জিয়া হুইলচেয়ারে বসা ছিলেন। আর ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার (খালেদা জিয়া) পাশে বসে ছিলেন। এ সময় তাদের কথা বলতে দেখা যায়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজেএম মোহাম্মদ আলী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দিনসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন।
২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।








