ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করবে স্বতন্ত্র জোট। আবাসন সংকট নিরসন, বহিরাগতদের প্রবেশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ ২২টি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এ জোট। সোমবার (৪ মার্চ) সকালে মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহারের বিস্তারিত জানানো হবে। বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জোটের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান।
অরণি সেমন্তি খান বলেন, ‘ইশতেহারে আমরা আবাসন, খাবারের মান, শব্দ দূষণ রোধ, পড়াশোনার পরিবেশসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাকে প্রধান ফোকাস করেছি। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।’
এদিকে, স্বতন্ত্র জোটের ফেসবুক পেজে ইশতেহারের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ইশতেহারের ২২টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে— মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সব অপতৎপরতা দমন, গণরুম ও গেস্ট রুম প্রথা নিষিদ্ধকরণ এবং অছাত্র ও অবৈধ বেড দখলকারীদের অবিলম্বে হল থেকে উচ্ছেদ, প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে প্রথমবর্ষসহ সব শিক্ষার্থীর সিঙ্গেল বেড নিশ্চিতকরণ, সাত কলেজের অন্তর্ভুক্তি বাতিল ও স্নাতক কলেজ রেগুলেটরি বডিকে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া, হলগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার, সব ডাইনিং, ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ায় চাঁদাবাজি রোধ ও ফ্রি খাওয়া রোধ, নিয়মিত ব্যাকটেরিয়াল টেস্টের মাধ্যমে খাবারের মান পরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, সব ক্যান্টিনে প্রতি বেলায় মাথাপিছু ৮০০ কিলোক্যালরি খাবার সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ। ডাকসু ও সায়েন্স ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার এবং মোকাররম ও মোতাহার ভবনে ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন।
ইশতেহারে আরও উল্লেখ রয়েছে— বাধ্যতামূলক উপস্থিতি এবং উপস্থিতির ওপর নাম্বারের নিয়ম রদ, দ্রুত ও সহজে সাপ্লেমেন্টারি ও ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা করা, রেজিস্টার ভবনের সব কার্যক্রম এবং পেমেন্ট ব্যবস্থা ডিজিটালাইজড করা, একাডেমিক কার্যক্রমে (পরীক্ষা, শিক্ষক নিয়োগ) সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক ফি বাতিল ও জরিমানার পরিমাণ হ্রাস করা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন এবং স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নিশ্চিতকরণ, সন্ধ্যা ছয়টা, রাত আটটা এবং ৯ টায় সব রুটে বাস চালু, ভিক্ষুকমুক্ত ও দূষণমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, টিএসসি এবং ক্যাম্পাস শ্যাডোতে ফার্মেসি স্থাপন ও ২৪ ঘণ্টা ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকীকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, কৃষি-শিল্প-স্বাস্থ্যভিত্তিক গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদী প্রণোদনা প্রদান এবং সার্বিকভাবে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কেন্দ্রীয় এবং সব খেলার মাঠ অযৌক্তিকভাবে ভাড়া দেওয়া নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ করা, ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া নির্ধারণ এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ।








