বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে ‘বোমাসদৃশ বস্তু’ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, এ ঘটনা বড় ধরনের কোনও ‘মাস্টারপ্ল্যান’-এর অংশ কিনা, তা নিয়ে তাদের মনে গভীর সংশয় ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এ উদ্বেগের কথা জানান।
এদিন ভোরে বিএসএমএমইউ’র প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় রেজিস্ট্রারের কক্ষের সামনে থেকে ‘বোমাসদৃশ বস্তু’টি উদ্ধার করা হয়।
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১ এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএসএমএমইউ থেকে ‘বোমা’ উদ্ধারের খবরে বিএনপি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। এ অবস্থায় সেখান থেকে ‘বোমা’ উদ্ধার জাতিকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে।
অবশ্য শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ‘পেট্রোলবোমা সদৃশ’ একটি বস্তু উদ্ধার করেছি। আসলে এটি পেট্রোলবোমা কিনা এবং কারা কী কারণে রেখেছিল তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এর আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা অভিযোগ করে বলেন, এমনিতেই দেশবাসী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিয়ে চিন্তিত, সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের ভেতর থেকে বোমা উদ্ধার বড় ধরনের ‘মাস্টারপ্ল্যান’-এরই অংশ কিনা, তা নিয়ে তাদের মনে গভীর সংশয় ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
রিজভী বলেন, এর পেছনে কোনও অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। যে হাসপাতালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন, সেখানকার নিরাপত্তাবেষ্টনী এত ঠুনকো থাকার কথা নয়।
বিএনপির এই নেতা প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কী উদ্দেশ্যে বিএসএমএমইউতে নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল রাখা হয়েছে?
রিজভী বলেন, “এই বোমা উদ্ধারের ঘটনায় প্রমাণিত হলো, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার উদাসীন অথবা অন্য কোনও ‘নীলনকশা’ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।”
খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরালো করাসহ তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।








