“এখানে আদর্শিক কোনও মিল নেই। আমরা আধুনিক, উগ্র ডান বা বামপন্থী নই। আপনি যদি অতীত ইতিহাস দেখেন, দেখবেন আওয়ামী লীগই জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। ১৯৮৬ সালে এরশাদ যখন নির্বাচনের আয়োজন করেছিল, তখন বিএনপি-জামায়াত ছিল ওই নির্বাচনের জন্য একটি আয়োজন মাত্র। তারা (জামায়াত) এক অংশে নির্বাচন করেছিল, আমরা আরেক অংশে। এর বাইরে কিছুই ছিল না। তারা তাদের মতাদর্শ অনুসরণ করে, আমরা করি আমাদেরটা।” ভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে “বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক কেমন?” এ প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রবিবার নেওয়া সাক্ষাৎকারটি মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ভারত সফরের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে খালেদা বলেন, “আপনারা তো জানেন এখন দেশের কী পরিস্থিতি। এখন দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশের পঁচানব্বই ভাগ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চায়।” বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই পরিবারের প্রভাব ভবিষ্যতেও থাকবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর অবদানকে স্বীকার করে বলেন, “এটা ঠিক নয়। এখানে পরিবারগুলো সম্মান দেওয়া হয়, কারণ শেখ মুজিবুর রহমানের একটা ভূমিকা ছিল, জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল। আর এখান থেকেই লোকের আস্থা তৈরি হয়েছে। দেখুন, এটা কেবল রাজনীতি নয়। একজন ব্যারিস্টারের সন্তান ব্যারিস্টার হবে, ডাক্তারের সন্তান ডাক্তার, আর এভাবেই একজন রাজনীতিকের কারণে তার পরিবারের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। এর পর সেটা জনগণের দরবারে আসে। তারা গ্রহণ করল কি না সেটাই মুখ্য বিষয়। গ্রহণ না করলে ওই রাজনীতিক হারিয়ে যাবে।” Screenshotভারতে নির্বাচনী প্রচারে ‘অবৈধ অভিবাসী’ নিয়ে কথা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুষমা স্বরাজের বৈঠকে কোনও কথা হয়েছে কি না এ বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “নির্বাচনের সময় মানুষ অনেক কথা বলে-আমরাও অনেক কিছু বলি। তার অর্থ এই নয় যে, সব কিছুই বাস্তবায়িত হবে। আমি মনে করি না, অনেক বাংলাদেশি ভারতে গেছেন, বরং তারা এখানে বেশ ভালোই আছেন।” ভারতে কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের নীতিতে কোনও পার্থক্য আছে কি না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন, এ বিষয়ে বলার মতো সময় এখনও তার হয়নি। তিনি বলেন, “অবশ্য, কিছু পরিবর্তন ভালো কিছুর আশার সঞ্চার করেছে। তবে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী কী ঘটলো।” ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জানতে চাওয়া হলে খালেদা জিয়া বলেন, “এরশাদ এখনও বলছেন যে, তিনি নির্বাচনে যাননি। তাকে জোর করে নির্বাচনে রাখা হয়েছে। তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন, যা গ্রহণ করা হয়নি। নির্বাচনের আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের ঢাকা সফরের প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, “তিনি এইচএম এরশাদকে নির্বাচনে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, অন্যথায় নির্বাচন হবে না এবং মৌলবাদীরা ক্ষমতায় আসবে।” বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এ অবস্থায় ভারতকে আশ্বস্ত করতে বিএনপি কী করতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এটা অবান্তর ধারণা। বিএনপি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরিতে এ ধরনের প্রচার চালানো হয়। প্রতিবেশী কোনও দেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে না দেওয়ার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলেই নির্যাতন বেশি হয়। বাবরি মসজিদ যখন ভাঙা হয় তখন আমি প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। দেশে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছিল, তখন তাদের কঠোর হাতে দমন করেছি। যেসব চ্যানেলে বাবরি মসজিদ ভাঙার ছবি দেখাচ্ছিল, সেসব চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তখন হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য আমার মন্ত্রীরা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছিল।”








