জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে দ্বিমুখী বক্তব্য দিয়েছেন তারিকত ফেডারেশনের নেতারা। রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও মহাসচিব এম এ আউয়াল পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। দলটি বর্তমানে ১৪ দলীয় জোটের একটি শরিক দল।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাউজভান্ডারি বলেন, কওমি ও ওহাবিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকার বারবার বলছে বোমা মেরে মানুষ হত্যা ও গাড়ি পোড়ানোর মামলার বিচার করা হবে। জামায়াত নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে এগুলোকে রাষ্ট্রের অধীনে আনতে হবে। জামায়াতের প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা সহায়তা করছে। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর দলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ্য করেন দলের মহাসচিব এম এ আউয়াল। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য দেশকে শেষ করে দেওয়ার সর্বশেষ চক্রান্তে মত্ত আছে জামায়াত। আমরা এখনও নিশ্চিত নই একাত্তরের ঘাতক দল জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হবে কি না। সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে বলে মনে করে তরিকত ফেডারেশন। তরিকতের মামলায় হাইকোর্ট স্বাধীনতাবিরোধী এ দলটির নিবন্ধন বাতিল করলেও বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে তারা পৌরসভা নির্বাচন করছে। তাহলে আমরা কি মনে করবো সরকার এই সুযোগ তরান্বিত করছে? দেশের তরুণ প্রজন্ম পরিষ্কারভাবে জামায়াত বিষয়ে সরকাররে অবস্থান জানতে চায়। অন্যথায়, সরকারের সঙ্গে তরিকতের সম্পর্কে এটি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
লিখিত বক্তব্যে এম এ আউয়াল দলের পক্ষে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। সেখানে অবিলম্বে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বদলে যায় দলটির বক্তব্য। সরকার জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না করলে দলটি ১৪ দলীয় জোটে থাকবে কিনা সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, তরিকত ফেডারেশন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকবে। জোট ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছেন আইনি প্রক্রিয়ায় জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে। যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে। সরকার আন্তরিকভাবেই কাজ করবে এটা আমাদের বিশ্বাস। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সারা দেশে তরিকতের কোনও প্রার্থী থাকছে না বলেও জানান সৈয়দ নজিবুল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ রেজাউল হক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রাব্বানী, জাহাঙ্গীর হাসান, সাংগঠানিক সম্পাদক মুহাম্মদ আলী ফারুকী।
/সিএ/এনএস/এফএ/








