কর্মীরা চাইলেন কঠোর আন্দোলন, নেতারা দিলেন বিক্ষোভ কর্মসূচি

আদিত্য রিমন
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২৩:০৪আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৫৮

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা গত দুই বছর বিএনপি রাজপথে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারায় দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের আশা ছিল, কেন্দ্রীয় নেতারা এই ‘ব্যর্থতা’ অনুধাবন করে শনিবারের (৮ ফেব্রুয়ারি) সমাবেশ থেকে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন। কিন্তু এবারও বিক্ষোভ মিছিলের মতো ‘দায়সারা’ কর্মসূচি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলেন নেতারা। কাঙ্ক্ষিত কর্মসূচি না পেয়ে অনেক নেতাকর্মীই হতাশা প্রকাশও করেছেন।

দলটির তৃণমূল নেতারা বলছেন, গত দুই বছর ধরে কোনও সমাবেশ বা সভা হলেই কেন্দ্রীয় নেতারা আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্তির কথা বলতেন। কিন্তু দলীয়ভাবে আদৌ রাজপথের কোনও কর্মসূচি দিতেন না তারা। এজন্য চেয়ারপারসনেরও মুক্তি মিলছে না। বিশেষ করে  আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের বাধ্য করার প্রক্রিয়া বলে মনে করেন তারা। যদিও শনিবার সমাবেশ জুড়ে দলের কেন্দ্রীয় ও নীতি-নির্ধারণী নেতারা কঠোর আন্দোলনের আশ্বাস দিলেও ৭ দিন পরে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের ‘হুঙ্কার’। এভাবে কর্মসূচি দিলে কোনোদিনও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না।   

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি)  আয়োজিত সমাবেশে আসেন খিলগাঁও থানা ছাত্রদলকর্মী মিজানুর রহমান।  তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এভাবে কয়েক ঘণ্টার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে সমাবেশ-মানববন্ধন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। তাকে মুক্ত করতে হলে কঠোর কর্মসূচি দিয়ে এক জায়গায় বসে যেতে হবে। সেখান থেকে ঘোষণা দিতে হবে—খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া আমরা ঘরে ফিরে যাবো না। তাহলে সরকার তাকে মুক্তি দেবে। না হলে যে কোনও সময় হাসপাতাল থেকে খারাপ খবরের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। (ছবি: নাসিরুল ইসলাম।)

মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘২ তারিখের হরতালে আমরা মাঠে ছিলাম। কিন্তু হরতালের ঘোষণা দিয়ে মহাসচিব কোথায় ছিলেন? ওই দিন যদি সব কেন্দ্রীয় নেতা ও সিটি নির্বাচনের সব কাউন্সিলর প্রার্থী রাস্তায় নামতেন, তাহলে হরতাল সফল হতো। কর্মসূচি দিলে আমাদের মতো কর্মীরা মাঠে থাকেন। আর নেতারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাঁচাতে গিয়ে বাসায় শুয়ে থাকেন। এভাবে বিক্ষোভ মিছিলের মতো দায়সারা কর্মসূচি দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না।’

একই সুরে কথা বলছেন কবি নজরুল কলেজের ছাত্রদলের কর্মী সাইফুল ইসলাম অর্ণব। তিনি বলেন, ‘আমরা জ্বালা-পড়ার মতো কর্মসূচি বিশ্বাস করি না। তবে খালেদা জিয়া মুক্ত করতে রাজপথে শান্তিপূর্ণ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নেতারা যে ধরনের কর্মসূচি দেবেন, তা পালনে আমরা মাঠে থাকবো।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুই সদস্য অ্যাডভোকেট ফারজানা আক্তার লুবনা ও অ্যাডভোকেট কাজী রওশন আফরোজ।  তাদের আশা, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দ্রুত কঠোর কর্মসূচি দেবেন বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা।

অ্যাডভোকেট ফারজানা বলেন, ‘আজ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতারা, আমরাও উপস্থিত হয়েছি। আমি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হোক। কারণ, এভাবে কর্মসূচি পালন তো গত দুই বছর ধরে হয়ে আসছে, কিন্তু তিনি মুক্তি পাননি। আর আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না সরকার। আমাদের আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই।’

‘গত ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ডাকা হরতালে কর্মীরা মাঠে ছিলেন না; সামনে কঠোর আন্দোলন দিলে তখন মাঠে থাকবেন কিনা’—এমন প্রশ্নের জবাবে ফারজানা বলেন, কর্মসূচি দিয়ে কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে নামতে হবে। এখন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে নেতারা রাস্তায় না নামলে কর্মীরা কীভাবে মাঠে থাকবেন? নেতাদের আন্দোলনের সামনে থেকে কর্মীদের উৎসাহ দিলেই তারা জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকবেন। এই যে আজ নেতারা মাঠে আছেন্। এ কারণেই কর্মীরা সবকিছু উপক্ষো করে রাজপথে নামতে সক্ষম হয়েছেন। এখন যদি, নেতারাই রাজপথে না থাকেন, তাহলে কার ভরসায় কর্মীরা রাস্তায় নামবেন? 

সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নাম না প্রকাশ করার শর্তে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন, ‘গত দুই বছর কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার হুঙ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তবে, এখনও তার বাস্তব রূপ দিতে পারেননি তারা।’ দলের সিনিয়র নেতারা আদৌ খালেদা জিয়ার মুক্তি চান কিনা, তা নিয়ে অনেক সময়ই সন্দেহ দেখা দেয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সমাবেশ শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটাই কথা—খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করবোই। সরকারকে বাধ্য করবো তাকে মুক্তি দিয়ে জনগণের সব অধিকার ফিরিয়ে দিতে।’ এটাই এখন বিএনপির একমাত্র কাজ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক