‘দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে তিনি এও বলেন, ‘দেশে লক্ষ মানুষ যারা মামলা-মোকাদ্দমায় জড়িত হয়ে পড়ে আছে, যারা কারাগারে রয়েছে, তাদের মুক্ত করা—এটা এখন জরুরি একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট শুধু বিএনপির নয়, এটা সমগ্র দেশের, সমগ্র মানুষের।’
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়। সাড়ে চারঘণ্টার এই ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারকে যদি সরানো না যায় এবং এখানে জনগণের সরকার যদি প্রতিষ্ঠা না করা যায় …। সত্যিকার অর্থে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ’
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বিএনপি তার ভূমিকা ইতোমধ্যে পালন করেছে এবং স্বেচ্ছাসেবক দল এই ভূমিকা অতীতে পালন করেছে এবং এখনও করছে। আমাদের এখন সময়ে এসেছে—আমাদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করা।’
ফখরুল অভিযোগ করেন, আজকে বাংলাদেশে দুইটা দুর্যোগ চলছে। একটি হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও স্বাস্থ্য খাতের দুর্যোগ, কোভিড-১৯-এর দুর্যোগ। অন্যটি হচ্ছে রাজনৈতিক দুর্যোগ। তিনি বলেন, ‘কোভিডে মানুষের জীবন-জীবিকা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আর রাজনৈতিক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে এদেশে মানুষের যে মালিকানা ছিল, সেই মালিকানা বিলীন করে দেওয়া হয়েছে। তারা (সরকার) দেশে লুটেরা অর্থনীতি, একটা লুটেরা সমাজ তৈরি করেছে।’
ফখরুল বলেন, ‘কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবকে জনগণ সামনে নিয়ে এসেছিলেন। সেই অবস্থাটা হচ্ছে ১৯৭২-৭৫ সাল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের যে চেতনা ছিল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে যারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, একটা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা হবে এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। কিন্তু জনগণ দেখেছে—১৯৭২ সাল থেকে মানুষ মুক্তির বদলে আরও আবদ্ধ হয়েছে, ক্রীতদাস হয়েছে।’
স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শহীদ জিয়া বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এজন্য যে, এসব সংগঠন দলের ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হরণ করেছে, বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে। মানুষ সত্য কথা বলতে পারছে না। সত্য আজকে মিথ্যার কাছে ধামাচাপা পড়ে গেছে।’
‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বিএনপির নেতৃত্বে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে যে লড়াই-সংগ্রাম চলছে, তাতে আমাদের অঙ্গসংগঠনগুলোকে ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিতে হবে’, বলে যোগ করেন মোশাররফ।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ দুটি ভাইরাসে আক্রান্ত। একটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ভাইরাস, আরেকটা হচ্ছে করোনাভাইরাস।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী ভাইরাসে আমাদের দেশের রাজনীতি গত ১১ বছর আক্রান্ত। এই ভাইরাস আমাদের জর্জরিত করেছে। আমাদের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া আছে, মামলার সংখ্যা এক লাখের ওপরে চলে গেছে। চিন্তা করে দেখেন, এই সরকার বিএনপিকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য কত না চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা দলের শক্তিকে কিছুই করতে পারেনি।’
বক্তারা সদ্য প্রয়াত স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্মৃতি প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ অংশ নেন।








