‘রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি সবক্ষেত্রে ভারতের আধিপত্য দিন দিন বাড়ছে। সরকার ভারতকে ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট, বন্দর ব্যবহারসহ অনেক সুবিধা দিলেও বাংলাদেশের প্রাপ্তি কম। ফারাক্কা ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যাও পায়নি বাংলাদেশ। বন্ধ হয়নি সীমান্তে হত্যা। ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের স্বরূপ: আমাদের স্বাধীনতা সংকট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এসময় রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, মুসলিম লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি আব্দুল কাইঊম, খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরু প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। দেশকে রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকারের হিসেবে দেশে ১০ লাখ শিক্ষিত বেকার রয়েছে। অথচ ভারতের ১২ লাখ লোক এদেশে কাজ করছে।’
ফয়জুল করীম বলেন, ‘বন্ধুত্বের ছদ্মাবরণে বাংলাদেশ আজ নানামুখী ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার। ক্ষমতাসীনদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অতিমাত্রায় ভারতপ্রীতির কারণে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরেও দেশবাসী স্বাধীনতা সংকটে ভুগছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কম খরচে। ভারতের টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে দেখা গেলেও ভারতে বাংলাদেশের চ্যানেল দেখা যায় না। ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
ইসলামি আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘দেশ, ইসলাম ও মানবতা আজ চরম হুমকির মুখে। ভারতীয় আধিপত্যের জয়জয়কার। এমতাবস্থায় দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘দেশ অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে। ভারত আমাদেরকে সবদিক থেকে গ্রাস করে ফেলেছে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্নের পথে। এ মুহূর্তে দেশ, ইসলাম ও মানবতা রক্ষায় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রকে টিকে থাকতে হলে নাগরিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা প্রয়োজন। কিন্তু আজ তা নেই।’
ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরু বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলার অনেকে সাহসও পায় না। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনা করা গেলেও ভারতের বিরুদ্ধে আলোচনা করা অনেক কঠিন। ভারতের বিভিন্ন জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস সরকারের নেই। সরকার গঠনে ভারতের প্রভাবসহ সর্বক্ষেত্রে ভারতের আধিপত্য ও হিংস্র থাবা বিস্তার চলছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’








