দেশে সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা সৃষ্টির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির পলিটব্যুরো অভিযোগ করেছে, ‘আইনশৃংখলা বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মের প্রতি কটূক্তি করার অভিযোগে একজন কলেজছাত্রীকে গ্রেফতার করলেও ওই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় সংগীতের ধর্মীয়করণ করে পরিবেশন, অন্য ধর্ম সম্প্রদায়ের ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি আক্রমণ, এমনকি ধর্ম নিয়ে উত্তেজক ও উসকানীমূলক বক্তব্য প্রচার ও প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা ইচ্ছাকৃতভাবেক নীরবতা পালন করছে।’
রবিবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোতে গৃহীত এক প্রস্তাবে এসব কথা বলা হয়েছে। দলটির নেতা কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবে বলা হয়, ‘ধর্মকেন্দ্রিক এসব ঘটনা রাজনীতি বহির্ভূত নয়, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার মাধ্যমে বিশেষ রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বিশেষ। এর প্রমাণ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোর ইসলাম সম্পর্কিত সাম্প্রতিক বক্তব্য ও ব্যবস্থাবলী গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মবাদী সংগঠনের বক্তব্য ও বিবৃতি।’
প্রস্তাবে বলা হয়, ‘বাকস্বাধীনতার নামে মহানবী (স.)-এর উপুর্যপুরী ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ পৃথিবীর সব দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানদের গভীরভাবে আহত ও ক্ষুদ্ধ করেছে, যার সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টি সহমত প্রকাশ করে। কিন্তু সে সম্পর্কে প্রতিবাদ জানাতে হেফাজতের শর্তে দেশ পরিচালনা করতে হবে বলে হেফাজতের বিশেষ নেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কেবল ঔদ্ধত্যপূর্ণই নয়, বিশেষ উদ্দেশ্য প্রণীত ও অগণতান্ত্রিক। সম্প্রতি জামায়াতের সহায়তায় হাটহাজারী মাদ্রাসার কর্তৃত্ব দখলের পর এই ব্যক্তি জামায়াতের লুকায়িত এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন বলেই প্রতীয়মান হয়।’
ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর প্রস্তাবে বলা হয়— বিভিন্ন বিষয়ে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন।
দলটির প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ‘এই অবস্থায় অতীতের পরিচিত পথে মৌলবাদী ধর্মবাদী মহলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তাকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা প্রয়োজন, যা সম্প্রতি সময়ে অনুপস্থিত থাকছে। প্রয়োজন জনগণের ওপর নির্ভর করা।’ ওয়ার্কার্স পার্টি সেই লক্ষ্যে পার্টি, ১৪ দল ও সব গণতান্ত্রিক সামাজিক সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বলে জানানো হয় প্রস্তাবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় গৃহীত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। সভায় উপস্থিত ছিলেন— পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, মাহমুদুল হাসান মানিক প্রমুখ।








