মুজিববর্ষে রাষ্ট্র ‘মেরামত’ করতে বললেন বিএনপির এমপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৭আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ২১:২০

সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ও দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে ‘মেরামত’ করার দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শন ছড়িয়ে দিতে মুজিববর্ষ উৎযাপিত হচ্ছে। পাশাপাশি শতবর্ষ উপলক্ষে আমাদের উচিত ছিল রাষ্ট্রকে মেরামত করা।’

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আনা সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির এই এমপি বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই দুর্নীতি একেবারেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। দেশে ধর্ষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সুশাসনের বড় অভাব রয়েছে। আজকে গণতান্ত্রিক অবস্থা… এ বছরে উচিত ছিল গণতান্ত্রিক অবস্থা মেরামত করা। মেরামত করার পদক্ষেপ নেওয়া।’

সংসদে দেওয়া রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ভাষণের উদ্বৃতি করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা বলেছেন। আজকে এই জায়গাগুলো আমরা নষ্ট করে ফেলেছি। কীভাবে এই জায়গাগুলো ফিরিয়ে আনবো— এটা মুজিববর্ষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে আমরা আলোচনা করবো। পাশাপাশি এই জায়গাগুলো নিশ্চিত করবো, সেই পরিকল্পনা থাকতে হবে। গণতন্ত্র ‍ও উন্নয়নের জন্য আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। মতভেদ-মতপার্থক্য থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তখনই ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয়, যখন আমরা প্রচলিত নিয়ম-বিধানের সীমালঙ্ঘন করে যাই।’

তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তায়ন-দুর্নীতি-প্রতারণা ও জনগণের অর্থ লুটপাট করাকে রাজনীতি বলা যায় না। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে। জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধের চরম আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। তবেই আমরা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারবো।’

হারুন বলেন, ‘আমরা সংবিধান প্রণয়ন করেছি। সংবিধান সঠিকভাবে অনুসরণ করলে ঝগড়া-বিবাদগুলো থাকবে না। নির্বাচন নিয়ে এত কথা হচ্ছে। এত বিরোধ হচ্ছে। বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল তত্ত্বাধবায়ক সরকার ভালো না। আমরা আপনাদের অধীনে নির্বাচন করবো। ভালো কথা, কোনও অসুবিধা নেই। এই বিষয়টি নিয়ে এত সংঘাত-দ্বন্দ্ব। সংবিধানে যে ঘোষণা দেওয়া আছে, সেই অনুযায়ী আমরা চলতে পারলে তাহলে এটা কমে যাবে।’

এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে আনা প্রস্তাবের ওপর আলেঅচনা করতে গিয়ে বিএনপির এই এমপি বলেন, ‘আমার জন্য বক্তব্য দেওয়াটা সত্যিই খুব কঠিন। বলতে দ্বিধা নেই, জাতীয় নেতৃবৃন্দের সম্মান এবং মর্যাদা আমাদের অবশ্যই দিতে হবে। চলার পথে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকবে। একটি দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি হবে এটাই স্বাভাবিক। আমি কোথা  শুরু করবো বুঝতে পারছি না। তবে,  প্রধানমন্ত্রীর মায়ের একটি লেখা থেকে শুরু করতে চাই। ২৬ মার্চ ১৯৭২ সালে প্রকাশিত ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ধানমন্ডির বাসার ঘটনা ওই লেখায় তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‘২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্তটি ছিল সঠিক। তিনি যদি পালিয়ে যেতেন, ভারতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করতেন, তাহলে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পাকিস্তানি শাসকরা বলতেন ‘উনি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করতে চান।’ যেটি তিনি বুঝেছিলেন। তিনি যদি আত্মগোপন করতেন, তাহলে হত্যার শিকারও হতে পারতেন। তিনি ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের নির্বাচিত নেতা। পাকিস্তানিরা তাঁকে ক্ষমতা দেয়নি। যার কারণে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তখন তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’’

স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক প্রশ্নে বিএনপির এমপি বলেন, ‘আজকে আমাদের বিতর্ক তৈরি হয়— স্বাধীনতার ঘোষক কে? কে ঘোষক নয় এটি নিয়ে বিতর্ক করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে কি শেখ মুজিবকে বড়-ছোট করা যাবে? আমরা যদি এই জায়গা থেকে বিতর্ক দূর করে দিতে পারি… এ ধরনের কোনও বিতর্ক আনা উচিত-ই নয়। কারণ, এর মধ্যদিয়ে কি স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে? দীর্ঘ ২০ বছর শেখ মুজিবের যে কষ্টার্জিত সংগ্রাম মানুষের অধিকারের জন্য,সেটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। সেটা কেউ অস্বীকার করে না। অস্বীকার করার কোনও জায়গাও নেই। এখানে প্রধানমন্ত্রী আছেন, যে বিষয়গুলো জাতিগত ক্ষত সৃষ্টি করছে, তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

রাষ্ট্রপতির ভাষণের উদ্বৃতি দিয়ে হারুন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের যত অমিলই থাকুক না কেন, বঙ্গবন্ধু কখনও বিরোধী দলের নেতাদের কটাক্ষ করে কিছু বলতেন না, বরং তাদেরকে যথাযথ সম্মান দিয়ে কথা বলতেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচার তাঁর জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল।’ এ প্রসঙ্গে কুরআনের একটি আয়াতের উদ্বৃতি দিয়ে হারুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর এই নীতির সঙ্গে কুরআনের আয়াতের হুবহু মিল রয়েছে। উনি (বঙ্গবন্ধু) বিরোধী দলের নেতাদের সম্মান করতেন। সমালোচনা করতেন  না। উপহাসও করতেন না, বরং তিনি স্নেহ করতেন শ্রদ্ধা করতেন।’

পাকিস্তান সৃষ্টির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,  ‘মুসলমানদের স্বাধীকারের জন্য এই পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল। মুসলমানদের অধিকার ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু দুইপ্রান্তে দুই দেশ থাকার জন্য সেটা বিপর্যস্ত হয়েছে।’

আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সম্মান-মর্যাদা দিতে হবে। কাউকে উপহাস করার প্রয়োজন নেই। যার যে অবস্থান… যতই চেষ্টা করি না কেন, আমরা কাউকে খাটো করতে পারবো না। আল্লাহ যাকে যে পর্যায়ে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মান ও মর্যাদা লঙ্ঘিত হবে না।’

 

/ইএইচএস/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বশেষ খবর
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম