জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই জনগণের সম্মতিবিহীন একাদশ সংসদ ভেঙে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এটাই হবে দেশবাসীর জন্য সুবর্ণজয়ন্তীর সুখবর।’
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের দুই বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় রব এসব কথা বলেন। দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে উল্লেখ করে এ সভার আয়োজন করে জেএসডি।
সভায় আ স ম আবদুর রব স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে জাতিকে একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করার জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। এগুলো হচ্ছে- ১. একাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া, ২. জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করা, ৩. নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা, ৪. সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ৫. গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি পেশার সংগঠনসহ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা।
রব বলেন, ‘জনগণের সমর্থন, সম্মতি ও রায়ের ভিত্তিতে ১৯৭১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। সুতরাং স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন হবে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অভিপ্রায়ের মাধ্যমে গঠিত বৈধ সরকার দ্বারা। জনগণের ভোটাধিকারের মর্যাদা রক্ষার জন্য সশস্ত্র লড়াই সম্পন্ন করতে হয়েছে এবং অগণিত মানুষের প্রাণ বলিদান দিতে হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছাড়া কোনও শাসনব্যবস্থাই বৈধতা পেতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের সবার দায়িত্ব হচ্ছে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্রপরিচালনার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যমত্য স্থাপন করা। প্রজাতন্ত্রের মালিকানা হচ্ছে জনগণের। জনগণের ইচ্ছা অভিপ্রায় অনুযায়ী সরকার গঠিত হবে, অন্য কোনও পন্থায় নয়। রাষ্ট্রপরিচালনা হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, অন্য কারও উদ্ভাবিত নির্দেশনায় নয়।’
সভায় বক্তব্য রাখেন জেএসডি সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, কার্যকরী সভাপতি সা কা ম আনিছুর রহমান খান কামাল, মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, সহ-সভাপতি মিসেস তানিয়া রব, অ্যাড. কে এম জাবির, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস এম আনছার উদ্দিন প্রমুখ।








