চলতি বছরের ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও বাড়তি চিন্তা নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভেতরে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন, ওইদিন বিএনপি রাজপথে নেমে শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে না। দলটির সেই শক্তি-সামর্থ্য নেই বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ কারণে দিনটিকে ঘিরে বিএনপি নিয়ে আপাতত ভাবছে না ক্ষমতাসীন দলটি। তবে, দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে, ওইদিন রাজপথে থেকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি দেখাতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। এ কারণে দিবসটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ আখ্যায়িত করে দলীয়ভাবে তা পালনের কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে রাজধানীর ১৮ স্পটে সভা-সমাবেশ ও র্যালির মধ্য দিয়ে রাজপথ নিজেদের দখলে রাখবেন তারা। তাদের প্রধান জমায়েতটি হবে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। পাশাপাশি সারাদেশেও একই কর্মসূচি থাকবে। ওইদিনের কর্মসূচি সফল করতে রবিবার (৩ জানুয়ারি ২০১৫) বিকেলে যৌথসভা ডাকা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছর ৫ জানুয়ারি সরকার পতনের আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি টানা ৯২ দিন জ্বালাও-পোড়াওয়ের অবরোধ-হরতাল পালন করে। রাজনৈতিক কৌশল খাটিয়ে গত বছর সহিংস অবস্থা থেকে উতরে যান ক্ষমতাসীনরা। এবার সে রকম কোনও সুযোগ বিএনপিকে দিতে চায় না তারা। আর গত বছরের ৫ জানুয়ারির মতো এবার সেই শক্তি-সামর্থ্যও বিএনপির নেই বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। ফলে কোনও বৈরি পরিস্থিতি সৃষ্টির তেমন আশঙ্কা করছেন না তারা।
এদিকে, শনিবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ ৫ জানুয়ারি নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ওইদিন কর্মসূচির নামে বিএনপি কোনও সহিংসতা করতে চাইলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, বিএনপি দিনে দিনে দুর্বল হচ্ছে। শক্তি-সামর্থ্য ও সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই তলানীতে। আওয়ামী লীগের বোদ্ধা নেতারা জানান, পৌর নির্বাচনে ভরাডুবি বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও দুর্বল করে ফেলেছে। মামলা-হামলার ভয় তো রয়েছেই। এসব হিসাব-নিকাষে তাদের নেতাকর্মীরা মাঠে নামার সাহস করবেন না। অবশ্য ক্ষমতাসীন দলটির গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র নিশ্চিত করে, বিএনপি এবার মাঠে নামার সুযোগও পাবে না। অন্তত ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সতর্ক পাহারায় থাকবে। সারাদেশেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ৫ জানুয়ারি সারাদিন সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৫ জানুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার জন্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছে আওয়ামী লীগ।
এদিকে, ওইদিন বিএনপিও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে রেখেছে ডিএমপির কাছে। জানা গেছে, ৫ জানুয়ারির কর্মসূচির অনুমোদন নিতে শনিবার সন্ধ্যায় দলের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে যান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
এ প্রসঙ্গে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, ওইদিন গণতন্ত্রের বিজয় দিবস। ওইদিনটিতে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিজয় মিছিল, সভা-সমাবেশ করবেন। তিনি জানান, ঢাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে জনসভা করা হবে। ইতোমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আমরা সরকার গঠন করেছি। দিবসটি উপলক্ষে আমাদের কর্মসূচি অবশ্যই থাকবে। বিএনপিও কর্মসূচি আহবান করেছে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আজিজ বলেন, বিএনপিকে নিয়ে আমরা ভাবছি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিএনপি কর্মসূচি পালনের অনুমতি পাবে কি না—তা নির্ভর করছে ঢাকা মেট্রোলিটন পুলিশের ওপর। তারা যদি মনে করে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে না, তাহলে অনুমতি দেবে। আর যদি কোনও আশঙ্কা থাকে, তাহলে দেবে না। বিএনপি কী করবে, সেটা বিএনপি জানে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভালো বোঝে।
৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের কর্মসূচি
৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে একযোগে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে ১৮টি টিম ১৮টি স্পটে পৃথক সভা-সমাবেশ ও র্যালি করবে। টিম ও স্পটগুলো হলো—
১। মিরপুর-১২ পূরবী সিনেমা হল: ড. আব্দুর রাজ্জাক, এস. এম কামাল হোসেন, স্থানীয় এমপি ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লাহ।
২। শ্যামপুর-জুরাইন রেলগেট: আহমদ হোসেন, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, একেএম এনামুল হক শামীম, সানজিদা খানম এমপি।
৩। ডেমরা-যাত্রাবাড়ী মাঠ: কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি।
৪। বাড্ডা-রামপুরা পেট্রোল পাম্প: এবি তাজুল ইসলাম, আফজাল হোসেন, একেএম রহমতউল্লাহ এমপি।
৫। ধানমণ্ডি ৩২নং রোড: স্বাস্থ্য মোহাম্মদ নাসিম, আবদুস সোবহান গোলাপ, ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, দেওয়ান শফিউল আরেফীন টুটুল, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি।
৬। মিরপুর-১ (গোলচত্বর) : আমির হোসেন আমু এমপি, আখতারুজ্জামান, আসলামুল হক আসলাম এমপি।
৭। লালবাগ: তোফায়েল আহমেদ, এম. এ আজিজ, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মৃণাল কান্তি দাস এমপি।
৮। গুলশান: শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আমিনুল ইসলাম আমিন।
৯। সূত্রাপুর: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, শ্রী সুজিত রায় নন্দী।
১০। তেজগাঁও : কাজী জাফরউল্লাহ, ড. হাসান মাহমুদ, মো. আব্দুছ ছাত্তার।
১১। সবুজবাগ-খিলগাঁও: নূহ-উল-আলম লেনিন, আব্দুর রহমান, আবদুল মান্নান খান।
১২। উত্তরা: সাহারা খাতুন এমপি, মুহাম্মদ ফারুক খান।
১৩। কামরাঙ্গীর চর: সতীশ চন্দ্র রায়, ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, কামরুল ইসলাম।
১৪। মোহাম্মদপুর টাউন হল: শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফরিদুন্নাহার লাইলী, মির্জা আজম।
১৫। কাফরুল: ডা. দিপু মনি, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, বি.এম মোজাম্মেল হক।
১৬। গুলিস্থান—বঙ্গবন্ধু স্কয়ার: মেয়র সাঈদ খোকন, হাবিবুর রহমান সিরাজ।
১৭। বনানী-মহাখালী: মেয়র আনিসুল হক, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
১৮। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, মো. মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ, অসীম কুমার উকিলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরী, হারুনুর রশীদ, অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, পঙ্কজ নাথ এমপি, শুক্কুর মাহমুদ, সিরাজুল ইসলাম, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. এস এম জাকির হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।
/এমএনএইচ/








