ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ২৮ মার্চ। শনিবার (৯ জানুয়ারি) দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্মেলন সম্পন্ন করতে বিভিন্ন বিষয়ে সাব কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, শিগগিরই এ সাব কমিটি গঠন করতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদককে। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।
৬ মাস বাড়লো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ
এছাড়া, বৈঠকে দলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ প্রস্তাব উত্থাপন করলে ৬ মাস মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সর্বসম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত হয়।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের আস্কারা দেওয়া এমপি-মন্ত্রীদের বিষয়ে তদন্ত হবে
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের আস্কারা দেওয়া এমপি-মন্ত্রী ও জেলার নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অভিযুক্তদের ব্যাপারে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের সাত সাংগঠনিক সম্পাদককে এ তদন্তের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। তার আগে কেন্দ্র থেকে তিন সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়ে অভিযুক্তদের কাছে শো-কজ নোটিস পাঠানো হবে। তবে অভিযুক্তরা কারণ দর্শানোর সুযোগ পাবেন।
সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের আস্কারা দেওয়া মন্ত্রী-এমপি ও জেলা নেতাদের শাস্তির আওতায় আনতে প্রস্তাব করেন। পরে এ প্রস্তাবের ওপর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।
শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ নাসিম। সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, এবার পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়ায় এ নির্বাচন আমাদের কাছে নতুন। আমাদের নতুন অভিজ্ঞতা। তবে দলের কঠোর ভূমিকা থাকার কারণে বিদ্রোহী দমনে আমরা মোটামুটি সফল হয়েছি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পেরেছি আমরা। নিয়ন্ত্রণও যথেষ্ট বজায় ছিল।
সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের যেসব এমপি-মন্ত্রী ও জেলার নেতা আস্কারা দিয়েছেন, ব্যবস্থা গ্রহণের আগে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। এ বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক সম্পাদকদের অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেও পৌর নির্বাচনকে একটি শিক্ষণীয় বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন।
খালেদা জিয়াকে লিগ্যাল নোটিসদাতা আইনজীবীকে আইনি সহায়তা দেবেন মেহেদী
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তোলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উকিল নোটিসদাতা আইনজীবীকে দলের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা দিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও আইনজীবী নেতা মমতাজ উদ্দিন মেহেদীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সভায় নড়াইলের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনেন কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট সুভাষ বোস। জামালপুরের ইসলামপুরে যুবলীগের কমিটির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনেন দলের অন্য কেন্দ্রীয় সদস্য মীর্জা আজম। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব অভিযোগ তদন্ত কমিটিকে অবহিত করার পরামর্শ দেন।
‘রত্ন-টত্ন বলার দরকার নেই’
সভায় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে অফিসিয়ালি ‘দেশরত্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রস্তাব করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে রত্ন-টত্ন বলার দরকার নেই, বঙ্গবন্ধু কন্যা বললেই আমি খুশি।
এদিকে, বৈঠকে সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, লক্ষীপুরসহ ৮টি জেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
/এমএনএইচ/








