সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোয় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, ‘সরকারের ব্যবস্থাপনার অভাবে নিয়মিতভাবেই অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। মানুষের জীবনহরণ হচ্ছে। এসব ঘটনায় সরকার বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শোকের বিবৃতি এলেও শ্রমিকের জীবন নিরাপদ হয় না।’
রবিবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় পৃথক-পৃথক বিবৃতিতে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি, জাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ঐক্য-ন্যাপ, গণসংহতি আন্দোলন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। বিবৃতিতে রাজনৈতিক নেতারা হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
শোকবাণীতে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি বিএম কন্টেইনার টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৪০ জনের অধিক শ্রমিকের মৃত্যু এবং শতাধিক শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারাত্মক আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতায় অগ্নিকান্ডসহ দুর্যোগ, দুর্ঘটনার মাত্রা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণের কাছে এ ভোটারবিহীন সরকারের কোনও জবাবদিহি নেই। তাই যত দুর্ঘটনাই ঘটুক, যত প্রাণহানির ঘটনাই ঘটুক তারা চোখ বন্ধ করে রাখে। মানুষের জীবনের কোন মূল্য তাদের কাছে নেই। প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীনরা কোন না কোনভাবে জড়িত। সরকার শুরু থেকেই দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার করলে এ ধরণের ঘটনা বার বার ঘটত না।’
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা- সরকারকে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনাসহ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বিবৃতিতে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, নিহত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘কেমিক্যালের এতবড় ডিপোতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক ও নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা না থাকায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।’ বিবৃতিতে তিনি মুমূর্ষুসহ চার শতাধিক আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা যোগসাজশে এই কনটেইনার পোর্টকে একটি বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত করে রেখেছিল’।
এলডিপি (একাংশ) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত দোষীদের বিচার দাবি করেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, “হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিকদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যও রয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা দেখে সহজেই অনুমেয় যে— এখানে কন্টেইনারে উচ্চমাত্রার কেমিক্যাল ছিল৷ এমন সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এ দুর্ঘটনায় এতজন প্রাণের ক্ষয় ঘটেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবহেলার জন্য দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
এছাড়া, ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ, গণফোরামের একাংশ, ঐক্য-ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক প্রমুখ নেতারা প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেন।









