পৌরসভা নির্বাচনের মতো আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ছয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ৪ হাজার ২৭৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে তিনি স্বাক্ষর করবেন। দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মতে, দলীয়প্রধান মনোনীত প্রার্থীদের মনোয়নপত্রে স্বাক্ষর দেওয়ার ফলে দলীয় রাজনীতিতে উজ্জীবিত হবেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্তদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত চিঠি দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের পছন্দকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও পকেটের লোককে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ এ নির্বাচনে দেওয়া হবে না। ব্যক্তিগত পছন্দের লোককে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিদ্রোহী প্রার্থী কোনওভাবেই ঠেকানো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তাদের মতে, তৃণমূলে চরম সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে। কোনওভাবেই তা এড়ানো সম্ভব হবে না। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, দলের ভেতরে বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন, যারা নির্বাচন এলেই নিজের পকেটের লোককে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে তদবির শুরু করে দেন। বিষয়টি দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও অবগত। তাই, তিনি ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথমেই তদবিরকারীদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। তিনি যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর। নীতি-নির্ধারণীপর্যায়ের নেতারা বলেন, পৌর নির্বাচনেও প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা নিয়ম রক্ষা করতে চেয়েছিলেন শতভাগ। কিন্তু তদবিরকারীদের অব্যাহত চেষ্টায় প্রার্থী মনোনয়নে শেষ পর্যন্ত শতভাগ স্বচ্ছতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা রক্ষা করতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যে প্রক্রিয়ায় প্রার্থী মনোনয়ন
মনোনীত প্রার্থীর নাম (ভোটার নং ১২ ডিজিট) এবং নির্বাচনি আইন, নীতিমালা ও বিধিমালা অনুযায়ী সব তথ্য প্রার্থীর নামের সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রার্থীর ভোটার আইডি’র ফটোকপি অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে।
জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এবং যে ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনি বোর্ড হবে। ইউনিয়ন কমিটি ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের সঙ্গে বর্ধিত সভা করে ১ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবেন। সেই সুপারিশকৃত নাম উল্লিখিত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনি বোর্ড (৬ জনের নাম ও স্বাক্ষর) প্রার্থী চূড়ান্ত করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠাতে হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলকেষ ১৯ জানুয়ারি গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার/ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত স্থানীয় সরকার/ইউনিয়ন পরিষদ মনোনয়ন বোর্ড। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি গণভবনে স্থানীয় সরকার/ইউনিয়ন পরিষদ মনোনয়ন বোর্ড বৈঠক করে তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। শেখ হাসিনা তার স্বাক্ষর করা চিঠি মনোনীতদের হাতে তুলে দেবেন।
/এমএনএইচ/








