ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বহির্বিশ্বে আর কারও কাছে জনপ্রিয়তা পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ঘুরে ঘুরে জনপ্রিয়তা পাবেন না। যেখানেই দাওয়াত পান সেখানেই দৌড় দেন, আগে পিছে তাকান না।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ এক দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্যামলীতে কালো পতাকা মিছিলপূর্ব বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, জনগণের টাকা খরচ করে পরিবার, দলবল নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছেন ব্রিকসে জয়েন করতে। যেই কাজে গেছেন সেই কাজ হয় নাই। সেখানে বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। নৌকায় ভোট দিতে বলেছেন। কোথায় কী বলেন! ভোট হচ্ছে বাংলাদেশে, আর তিনি ভোট চাচ্ছেন বাইরে গিয়ে। আর বিএনপিকে গালিগালাজ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় কী যেতে হয় বিএনপিকে গালি দিতে, জনগণের করের টাকা খরচ করে। সেটা তো এখানেই করতে পারেন। সুতরাং প্রত্যেক জায়গা থেকে প্রত্যাখ্যাত হবেন। সবাই প্রত্যাখ্যান করবে এই অবৈধকে।
সরকার প্রতারণার রাজনীতি করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তৃতীয় কোনও দেশে গিয়ে বাইলেটারাল মিটিং হয় না। সেখানে অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিটিং হয় না। মিথ্যাচারের রাজনীতি বিশ্ববাসী ধরে ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষ তো আগেই ধরে ফেলেছে। এই মিথ্যাচারের রাজনীতি আর চলবে না।
আগামীতে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার প্রশাসন ও বিচারকদের দিয়ে রেজিম তৈরি করেছে জানিয়ে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিচারকদের দিয়ে সাজা দিচ্ছে। এর জন্য তারা দিন রাত কাজ করছে। পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। এ দেশের মানুষের প্রতিপক্ষ হয়ে কেউ জয়ী হতে পারে নাই। তাই বাংলাদেশের মানুষের প্রতিপক্ষ কেউ হবেন না। পুলিশ ভাইয়েরা হবেন না, র্যাব ভাইয়েরা হবেন না। বিজিবি হবেন না, আনসার হবেন না, সরকারি কর্মকর্তারা হবেন না, বিচারকরা হবেন না। সবার কাছে বার্তা, দেয়ালের লিখন পড়তে শিখুন। সেখানে লেখা- শেখ হাসিনা বিদায় হও। সিদ্ধান্ত নেন, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন না। আর নিলে সেই দায়দায়িত্ব আপনাদের।
সরকার নতুন করে জঙ্গি নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, বহির্বিশ্ব এই জঙ্গি নাটক বিশ্বাস করে না। এটি পুরোনো হয়ে গেছে। বরং এ দেশে আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় জঙ্গি কোনও দল নেই। তাদের চেয়ে বড় কোনও সন্ত্রাসী দল নেই। তাদের আর ক্ষমতায় রাখা যাবে না।









